যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে সিলেট সফরে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার সকালে সিলেট শহরতলির বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে আয়োজিত এক শিষ্টাচারপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এই সাক্ষাতে সিলেটের সার্বিক অগ্রগতি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের আর্থ-সামাজিক অবদান, পর্যটনের সম্ভাবনা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এ সময় বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে কাজ চলছে এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরে দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এর আগে সকালে সস্ত্রীক সিলেটের স্থানীয় দুগ্ধ ও মিষ্টিজাত পণ্যের ব্র্যান্ড 'দুধওয়ালা'র একটি শাখা পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা ও মান নিয়ে প্রশংসা করেন তিনি।
বেলা ১১টার দিকে নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে শিষ্টাচারপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। প্রশাসক জানান, নগরের পরিচ্ছন্ন অবস্থা দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তাঁকে ঐতিহ্যবাহী সাত স্তরের চা এবং সিলেটের মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। পরে তিনি সুরমা নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক কিনব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি এবং চাঁদনী ঘাট পরিদর্শন করেন।
বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক, এমরান আহমদ চৌধুরী ও মুফতি আবুল হাসান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার কথাও জানান। তিনি সিলেটের চা-বাগান, টিলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করে অঞ্চলটির সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের শিষ্টাচারপূর্ণ সাক্ষাৎ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। সফর শেষে আলী আমজদের ঘড়ির সামনে মেরিন সেনাদের পরিবেশিত একটি বিশেষ কনসার্ট উপভোগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সিটি প্রশাসক জানান, রাষ্ট্রদূতের এই প্রথম সিলেট সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা ও ঐতিহ্যের প্রতি তার মুগ্ধতা স্পষ্ট ছিল।




