সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসি দেশের ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা, সুশাসন এবং সুষম প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘একসঙ্গে এগিয়ে চলা’ এই মূলমন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষকে আধুনিক আর্থিক সেবার আওতায় আনতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে ৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি ২০২১ সালের ১১ আগস্ট পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, যা তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
গ্রাহক সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে সারা দেশে তাদের ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, ৮৫টি এটিএম ও সিআরএম এবং ৩৬টি এজেন্ট আউটলেট চালু রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে ব্যাংকটির মোট শাখার ৪২ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক সেবার জন্য ১০টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা এবং বৈদেশিক ঋণের জন্য একটি ‘অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট’ পরিচালিত হচ্ছে। ই-কেওয়াইসি, কিউআর পেমেন্ট এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের লেনদেন আরও সহজ করা হয়েছে।
আর্থিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে গত পাঁচ বছর অত্যন্ত সফল ছিল এই ব্যাংক। দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে আমানত বেড়েছে ৪৮ শতাংশ এবং ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা গত ছয় মাসেই ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা এবং প্রথম ছয় মাসে অর্জিত হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা। ২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত এবং ৮২৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার হার বর্তমানে ১৩.৪১ শতাংশ।
ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করেছে। মোট ঋণের ৪৭ শতাংশ করপোরেট, ৩১ শতাংশ এসএমই, ২০ শতাংশ রিটেইল এবং ২ শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে; ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৯৩১ কোটি টাকার পর ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে ৬ হাজার ১৯ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে।
ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তুলতে ব্যাংকটি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে। ২০১৮ সালে চালু করা ‘বাংলাপে’, ‘এসবিএসি ক্লিক’ এবং ‘এসবিএসি ফাস্ট অ্যাকাউন্ট’-এর মাধ্যমে বর্তমানে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯২১ জন গ্রাহক সেবা নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ নারী। এছাড়া ১ লাখ ১২ হাজার ৭৮০টি ডেবিট কার্ড এবং ৯ হাজার ৭২৫টি ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তার জন্য আইএসও ২৭০০১ ও পিসিআই-ডিএসএস মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে।
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাংকটি ৮৬১ কোটি টাকার টেকসই অর্থায়ন এবং ১১৫ কোটি টাকার সবুজ অর্থায়ন করেছে, যার মধ্যে ২০ কোটি টাকা সরাসরি পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের জন্য ‘উচ্চাশা’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমৃদ্ধি’ নামের বিশেষ সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি সরকারি কোষাগারে ২০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ভ্যাট ও কর জমা দিয়েছে। এক দশকের সামগ্রিক পর্যালোচনায় আমানত, ঋণ, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং মোট সম্পদের সবকটি সূচকেই টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এসবিএসি ব্যাংক।




