কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। আজ রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই പ്രതിഷേധের মুখে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর এক বিশাল মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের দিকে যাত্রা করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কোটবাড়ি বিশ্বরোডের নন্দনপুর এলাকায় মহাসড়কের উভয়মুখী লেনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল অপ্রতিম হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং কুমিল্লার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহা খানম এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অঞ্জন রায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অঞ্জন রায়ের দাবি, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে তারা এখনো বিস্তারিত ও স্বচ্ছ তথ্য পাননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে করা প্রেস ব্রিফিংয়ের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করার দাবি জানাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম জানান, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আইফোনটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার পর এবং তাদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গ্রহণের প্রেক্ষিতে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন অপ্রতিম। পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয় এবং এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে যে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, রোববার বেলা ১১টায় কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে অপ্রতিমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় অপ্রতিমের বাবা শোকাতুর কণ্ঠে বলেন, যেন আর কোনো বাবা-মাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।




