চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছের খ্যাতি কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একদল অসাধু চক্র ফেসবুকের মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। এই ধরনের জালিয়াতি রুখতে এবং চাঁদপুরের ইলিশের মান ও মর্যাদা বজায় রাখতে এক বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। এখন থেকে অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
গত বুধবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চাঁদপুরের ইলিশের স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা, সঠিক মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জেলার সুনাম ধরে রাখতে জেলা প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে, যা রোধ করতেই লাইসেন্স প্রদানের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-ক) আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যোগ্যতা সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। এরপর পরিশিষ্ট-খ-তে বর্ণিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
এই বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এই তদন্তের সূত্র ধরে ইতিমধ্যে নড়াইল জেলা থেকে ১১ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জন সরাসরি জড়িত ছিলেন।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, অনলাইনে ইলিশ বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনার ফলে এখন থেকে এই খাতে প্রতারণার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। জেলা মৎস্য বণিক সমিতি ও পুলিশ প্রশাসনের মতে, এই নিয়মের ফলে ক্রেতারা এখন থেকে নিরাপদভাবে অনলাইনে ইলিশ কিনতে পারবেন এবং প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসবে।




