চাকরি খুঁজতে গিয়ে অনলাইনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বহু তরুণ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক ঘটনার চিত্র। লিংকডইনে পাওয়া একটি ভুয়া ইন্টারভিউ লিংকে ক্লিক করার পর ১৮ হাজার পাউন্ড (প্রায় ২৮ লাখ টাকা) হারিয়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। তাঁর জমানো সঞ্চয় ও ক্রিপ্টোকারেন্সি মুহূর্তেই হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। শুধু বিদেশেই নয়, বাংলাদেশেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এসব অপরাধী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন বা ফেসবুকে ভুয়া রিক্রুটার বা নিয়োগকর্তারা আকর্ষণীয় পদের প্রলোভন দেখিয়ে মেসেজ পাঠান। তাঁরা ইন্টারভিউ বা 'টেকনিক্যাল টেস্ট'-এর নাম করে ই-মেইলে বিশেষ ফাইল, সফটওয়্যার বা ভুয়া ইন্টারভিউ টুল ডাউনলোড করতে বলেন। চাকরিপ্রার্থী সেই ফাইল বা সফটওয়্যার ইনস্টল করলেই ডিভাইসে ঢুকে পড়ে ক্ষতিকারক মালওয়্যার বা ভাইরাস। এরপর হ্যাকাররা মোবাইল বা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ই-ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড চুরি করে সব টাকা সরিয়ে নেয় তারা।

প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে সুযোগ কম থাকায় অনেক তরুণ সন্দেহজনক বিষয়গুলো খেয়াল না করেই ভুল লিংকে ক্লিক করে ফেলেন। তবে সামান্য সতর্কতা এই ক্ষতি এড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বার্তা পেলে আগে সেই কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া পেজ যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সরাসরি প্রতিষ্ঠানে ফোন করে সার্কুলারটি সত্যি কিনা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

যে কোনো রিক্রুটার অজানা অ্যাপ, সফটওয়্যার বা ড্রাইভের বিশেষ লিংক ডাউনলোড করতে বললে তাতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো সাধারণত জিমেইল বা ইয়াহুর মতো ফ্রি মেইল সার্ভিস ব্যবহার করে না। তাঁদের নিজস্ব ডোমেইন বা অফিসিয়াল ই-মেইল অ্যাড্রেস থাকে। ইন্টারভিউ বা নিয়োগপ্রক্রিয়ার জন্য টাকা চাওয়া হলে সেটি শতভাগ ভুয়া বলে ধরে নেওয়া উচিত। জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

মোবাইল ও কম্পিউটারে সব সময় আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে চাকরি খোঁজার সময় অতিরিক্ত উৎসাহী না হয়ে সতর্ক থাকাই সাইবার প্রতারকদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার মূল উপায় বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে এবং বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।