আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগের দাবিতে চলমান গণবিক্ষোভ সপ্তম দিনে পদার্পণ করল। উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন এখন সহিংস রূপ নিয়েছে, যেখানে দাঙ্গা পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সোমবারের সহিংসতার আগে এই সংঘাতের ফলে অন্তত ২৯৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শোচনীয় পরিবেশ, ব্যাপক দুর্নীতি এবং চাকরির অভাব। তারা দাবি করছেন, রামা সরকার দীর্ঘ ১৩ বছর ক্ষমতায় থেকে সাধারণ মানুষের অধিকার খণ্ডন করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এই আন্দোলনকে বহির্বিশ্বের ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুলিশ প্রধানদের সামনে একটি পাথর প্রদর্শন করে তিনি বলেন, এই ধরনের সহিংসতা বা চাপের মুখে রাষ্ট্র যদি সমঝোতা করে, তবে রাষ্ট্রের পতন অনিবার্য। তার দাবি, ইউরোপ এবং আমেরিকার কিছু অশুভ শক্তি আলবেনিয়ার তরুণদের উসকে দিচ্ছে এবং দেশটিকে পরিকল্পিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তিরানার রিনিয়া পার্কে (ইয়ুথ পার্ক) এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ যখন আর্মার্ড ট্রাক ও জলকামান নিয়ে অগ্রসর হয়, তখন বিক্ষোভকারীরা রাস্তার পাথর উপড়ে পুলিশকে আক্রমণ করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এই বিশৃঙ্খলার মাঝে অনেক বিক্ষোভকারী ক্যাফেতে আশ্রয় নেন, যেখানে টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে কর্মীদের চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। হলুদ রিফ্লেক্টর জ্যাকেট পরা স্বেচ্ছাসেবকরা আহত ও অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মানবাধিকার আইনজীবী জেন্টিয়ান সেজরানি পুলিশের এই দমনপীড়নকে 'বিবেচনাহীন ও বিশৃঙ্খল' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ১০০-র বেশি গ্রেপ্তার ব্যক্তির আইনি সহায়তা দিচ্ছেন তিনি। তার মতে, পুলিশ আদালতে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং অনেক নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা বিক্ষোভের সাথে যুক্ত নন। বিপরীতে, যারা পুলিশে আক্রমণ করছে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় ধরা পড়ছে না।

আন্দোলনের সাথে যুক্ত ২৭ বছর বয়সী মাস্টার্স শিক্ষার্থী সিডোরেলা ভাটনিকা বলেন, তাদের লক্ষ্য একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা, যা এক বছরের জন্য দেশ পরিচালনা করবে এবং একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। তার অভিযোগ, রামা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে কারচুপি করেছেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অপরাধী চক্রের সাথে তার গোপন আঁতাত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে লক্ষ লক্ষ আলবেনীয় নাগরিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, যার ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রামা দাবি করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে আলবেনিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাইয়ে দিতে তিনি একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। তবে বর্তমানে তিরানায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনেই অনেক সরকারি ভবনে আগুন লাগানো হয়। উল্লেখ্য, আলবেনিয়া বর্তমানে নিজেকে মেডিকেল ট্যুরিজমের একটি নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সেই লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।