বীর্য পরীক্ষায় শুক্রাণু পাওয়া না গেলে অনেক পুরুষই হতাশায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু অ্যাজোস্পারমিয়া মানেই যে পিতৃত্বের পথ চিরতরে বন্ধ, তা নয়। ঢাকা ফার্টিলিটি সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান জন্মদান সম্ভব।
অ্যাজোস্পারমিয়া মূলত দুই ধরনের। একটি হলো অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়া, যেখানে টেস্টিসে শুক্রাণু তৈরি হয়, কিন্তু শুক্রাণু বীর্যে পৌঁছানোর পথে কোনো বাধা বা নালি বন্ধ থাকার কারণে তা নির্গত হয় না। এই অবস্থায় পিইএসএ বা টিইএসএ পদ্ধতিতে টেস্টিস থেকে সরাসরি শুক্রাণু সংগ্রহ করে আইভিএফ বা ইকসির মাধ্যমে সন্তান ধারণের চেষ্টা করা যায়। অন্যটি হলো নন-অবস্ট্রাকটিভ বা সিক্রেটরি অ্যাজোস্পারমিয়া। এ ক্ষেত্রে টেস্টিকুলার ফেইলিউরের কারণে শুক্রাণু তৈরি হয় না, অথবা তৈরি হলেও তা পরিণত অবস্থায় পৌঁছায় না। এমন পরিস্থিতিতে আইভিএফ বা টেস্টটিউব পদ্ধতিও সাফল্য নাও দিতে পারে, কারণ সুস্থ পরিণত শুক্রাণুর অভাবে ভ্রূণ তৈরি করা সম্ভব হয় না।
উল্লেখ্য, অ্যাজোস্পারমিয়ার চিকিৎসায় কোনো ওষুধ দিয়ে শুক্রাণু উৎপাদন করা যায় না। একমাত্র ভরসা ইকসি বা আইভিএফ। ইকসি পদ্ধতিতে রোগীকে সাময়িক অচেতন করে পিইএসএ বা টিইএসএ-র মাধ্যমে টেস্টিস থেকে শুক্রাণু বের করা হয়। এর আগে স্ত্রীকে ১০-১২ দিন ইনজেকশনের মাধ্যমে ডিম্বাণু পরিপক্ব করতে হয়। পরে স্ত্রীকে অচেতন করে ডিম্বাণুগুলো আইভিএফ ল্যাবরেটরিতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর একটি মাইক্রো ম্যানিপুলেটর যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিটি ডিম্বাণুর ভেতরে একটি করে শুক্রাণু প্রবেশ করানো হয়, যাকে ইকসি বলে। কয়েক দিনের মধ্যে সেই ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ তৈরি হয় এবং তা স্ত্রীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
সাফল্যের হার প্রসঙ্গে চিকিৎসক জানান, অ্যাজোস্পারমিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত সাফল্য ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি নয়। তবে স্ত্রীর বয়স কম থাকলে এবং দুই থেকে তিনবার ট্রান্সফার করার মতো পর্যাপ্ত ভ্রূণ পাওয়া গেলে এই হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।
তাই শুক্রাণু না পাওয়ার খবরে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ বন্ধ্যত্ববিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী। কারণ, সঠিক রোগনির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান লাভের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।




