কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের একটি ঝোপ থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করার পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অপ্রতিমের ব্যবহৃত একটি আইফোন ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ সাইফুল ইসলাম তুহহিন (১৯) নামের এক যুবক এবং ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তুহিন এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তার শোবার ঘরের তোষকের নিচ থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বেরিয়েছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ছাত্র অপ্রতিম। কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়। রাতে বাড়ি না ফেরায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরদিন দুপুরে পুলিশ লালমাই পাহাড়ের ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে তুহিনকে আটক করে এবং তার জবানবন্দির ভিত্তিতে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মো. সিয়াম নামের আরও এক কলেজ ছাত্রের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শালবন এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ী বনের ভেতরে অপ্রতিমকে ঘিরে ধরে তিন অভিযুক্ত। তারা অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে বাধা দেয়। এর ফলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং প্রথমে তুহিন, এরপর বাকি দুই কিশোর বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন ফোনটি নিয়ে নেয় এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারকৃত তুহিন সম্পর্কে জানা গেছে, সে ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। তার বাবার একটি মুরগির খামার রয়েছে, যার অবস্থান হত্যাকাণ্ডের জায়গার খুব কাছেই। স্থানীয়দের মতে, তুহিন এলাকার বিভিন্ন কিশোর-যুবকদের নিয়ে একটি গ্যাং তৈরি করে আধিপত্য বিস্তার করতে পছন্দ করত। স্থানীয় একটি ক্যাফেতে তার আড্ডা এবং মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় দাপট দেখানোর কথা জানা গেছে। যদিও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তুহিনের বিরুদ্ধে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা অভিযোগ নেই, তবে এলাকায় তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক ব্যবহারের কথা শোনা যায়। অপ্রতিমের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যার পর পুলিশ এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এই ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।