প্রখ্যাত ভাষাসংগ্রামী এবং রবীন্দ্র-গবেষক আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে 'খামখেয়ালী সভা'র উদ্যোগে 'মহিমা তব উদ্ভাসিত' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, আহমদ রফিক তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন এবং কোনো নির্দিষ্ট দলীয় সংকীর্ণতার বশবর্তী হননি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও গবেষক মফিদুল হক উল্লেখ করেন, পেশায় চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে আহমদ রফিককে দীর্ঘ সময় ফেরারি জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে, যার ফলে তাঁর পড়াশোনা ও পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার পর বড় ব্যবসায়ী হওয়ার সুযোগ থাকলেও রফিক সাহেব জাগতিক সম্পদের মোহ ত্যাগ করে লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাকেই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সাদী জানান, ১৯৪৭ সালে হরগঙ্গা কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারের প্রথম নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ইসমাইল সাদী আরও বলেন, রফিক সাহেব অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং নিজের অবদান নিয়ে কখনোই আত্মপ্রচারে লিপ্ত হননি। ১৯৫৮ সালেই তিনি 'শিল্প সংস্কৃতি জীবন' প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রকাশ করে তাঁর প্রখর চিন্তাশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আহমদ রফিক তরুণ প্রজন্মের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং অনেক সম্ভাবনাময় তরুণের উদ্দেশ্যে বই উৎসর্গ করেছেন। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মঞ্জুয়ারা রশিদের গান এবং আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আহমদ রফিক ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা পরিবেশিত হয়।
খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম জানান, হাতিরপুলে তাদের রবীন্দ্র সংগ্রহশালায় আলাদাভাবে একটি 'আহমদ রফিক কর্নার' তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি 'আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা' নামে একটি বিশেষ কোর্স চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পাঠদান করবেন।
স্মরণসভায় প্রয়াণবার্ষিকীর অংশ হিসেবে চারটি বিশেষ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে— রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে তাঁর রচনাবলি ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা আয়োজন, আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা এবং রবীন্দ্র-গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণা বৃত্তি চালু করা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করা চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, খামখেয়ালী সভা এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর এবং সকলের সহযোগিতায় তাঁর স্মৃতি চর্চা অব্যাহত রাখা হবে।




