কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবটগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের নিজস্ব 'জিপিটি-৩.৫' মুহূর্তটি খুঁজে পাবে বলে বিশ্বাস করেন চীনা রোবটিক্স স্টার্টআপ এজিবোট (AGIBOT)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়াও মাওচিং। গত ৮ সেপ্টেম্বর ম্যাকাওতে অনুষ্ঠিত ফরচুন লিডারস ফোরামে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, এমবডাইড এআই (Embodied AI) মডেলগুলো আরও পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দৈনন্দিন কাজগুলো সম্পাদন করতে পারবে। এখানে 'জিপিটি-৩.৫' বলতে তিনি ওপেনএআই-এর সেই মাইলফলকটিকে বুঝিয়েছেন, যার ফলে চ্যাটজিপিটি সাধারণ কাজগুলোতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সাফল্যের হার অর্জন করে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৯,৭০০টি ইউনিট সরবরাহ করে হিউম্যানয়েড রোবটের বাজারে শীর্ষ বিক্রেতা হয়ে উঠেছে এজিবোট। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে হংকংয়ে আইপিও (IPO) আনার কথা বিবেচনা করছে। তবে কেবল প্রদর্শনী বা খেলাধুলার সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে এই প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করার লড়াই চলছে। যেমন, সাংহাই ভিত্তিক কিনন রোবটিক্স (Keenon Robotics) হোটেল পরিষেবা স্বয়ংক্রিয় করতে কাজ করছে। তাদের সিও ওয়ান বিন জানান, সাংহাইয়ের একটি হোটেলে বর্তমানে পাঁচটি রোবট অতিথি অভ্যর্থনা, রুম সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা এবং রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সাধারণ হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, ইউবিটেক (UBTech)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়ানক্সিন পাং জানিয়েছেন, তারা শিল্পখাতের জন্য রোবট তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন। তবে বিনিয়োগের সঠিক প্রতিদান নিশ্চিত করতে তারা প্রথমে বড় বাজারের সাধারণ দৃশ্যপটগুলো দিয়ে কাজ শুরু করছেন। তবে শিল্প কারখানায় রোবটের ব্যবহার এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং। ইয়াও মাওচিং স্বীকার করেন যে, কারখানার ভেতরে স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারে এমন রোবট তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। শিল্প খাতের গ্রাহকরা প্রযুক্তির চেয়ে সাফল্যের হার, সাইকেল টাইম, স্থায়িত্ব এবং খরচের মতো চারটি বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তাই রোবটগুলোকে শতভাগ কার্যকর করার লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এ বিষয়ে ইয়াও জানান, গত জুনে এজিবোট একটি ছয় দিনের লাইভস্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে দেখিয়েছে যে, তাদের রোবটগুলো ৬৪,০০০টিরও বেশি উৎপাদনজাত কাজে ৯৯.৯৯% সাফল্যের হার অর্জন করেছে। এই সাফল্য পেতে এক মাস ধরে গভীর রাতে আট ঘণ্টা করে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাদের।

পরিশেষে, ইয়াও আশাবাদী যে ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মতো এমবডাইড এআই-এর ক্ষেত্রেও এক্সপোনেনশিয়াল স্কেলিং ল বা দ্রুত বর্ধনশীল নিয়মটি কাজ করবে। তাঁর বিশ্বাস, তথ্যের পরিমাণ এবং মডেলের প্যারামিটার যত বাড়বে, রোবটগুলোর বুদ্ধিমত্তার স্তর তত দ্রুত উন্নত হবে।