দেশীয় বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন দরের ঘোষণা দিয়েছে, যা আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটারে ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি লিটারের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা, যা আগে ছিল ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। উল্লেখ্য যে, গত মাসেও এই জ্বালানির দাম ১৭ টাকা ১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এভাবে টানা চার মাস ধরে দেশে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সুখবর এসেছে। আন্তর্জাতিক রুটে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১.১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১.১৬৩৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে দুই দফায় ভ্যাট প্রযোজ্য। আগে এটি ১৭ শতাংশ হারে আদায় করা হতো, যা ভুল ছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এই হিসাব সংশোধনের নির্দেশ দেওয়ায় এবার সাড়ে ২২ শতাংশ ভ্যাট ধরে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত এই ভ্যাটের পরিবর্তনের কারণেই অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়েছে।
জ্বালানির এই মূল্য অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ একটি বড় কারণ। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং গত মার্চ মাসে দুই দফায় মোট ১০৭ টাকা দাম বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।
প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে এখন বিইআরসি এই জ্বালানির দাম নির্ধারণ করছে। আগে এই দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করার পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসি-কে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথম গণশুনানির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ শুরু হয় এবং এখন থেকে প্রতি মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।




