কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের ছাদ থেকে সাইনবোর্ড অপসারণের ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার সকালে তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত এ বিষয়ে আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। বিচারক রাজা বসুচৌধুরী মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের ছাদে থাকা বিশাল সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নিয়ে যান। পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ওই সাইনবোর্ডটি অনুমোদনবিহীনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল।
তৃণমূলের অভিযোগ, পুলিশি সহায়তায় পৌরসভার কর্মীরা জোর করে দপ্তরের ছাদে উঠে সাইনবোর্ডটি খুলে ভাঙচুর করে নিয়ে যান। অভিষেকের দপ্তরটি ওই ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত। সাইনবোর্ড অপসারণের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক নিজে, রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা বাধা দিলেও পৌরসভা ও পুলিশের কর্মীরা তা আমলে নেয়নি বলে দাবি দলটির।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পুলিশ কি বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে?’ তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পুলিশ ও পৌর কর্মকর্তারা ‘নির্যাতন’ চালিয়েছেন। সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার পরে অবশ্য দপ্তরের নামে নতুন একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তবে তৃণমূলের এই অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে সেখানে পৌরসভার কর্মীরা গিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি অভিষেককে ‘গুন্ডামি’ করার অভিযোগও এনেছেন। সুকান্তের মন্তব্য, ‘এখন তাঁরা ভয় পেয়ে গেছেন।’
এ ঘটনার সমালোচনা করে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এমনভাবে অভিযান চালানো অনুচিত। তাঁর মতে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, ‘ঝগড়া-ঝগড়া ভাব’ তৈরি করে অভিষেক আসলে তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়েছে। দলের একাংশের বিধায়কেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভাতেও দলের ভেতরে বিভাজন দেখা দিয়েছে—কয়েকজন সংসদ সদস্য দল থেকে দূরত্ব বজায় রেখে স্বতন্ত্রভাবে বসছেন। তাঁদের নতুন গোষ্ঠীকে লোকসভার স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। এমন রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।




