মোট ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে বিস্তৃত তিনটি করিডোরে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছে। রুটগুলো হলো জয়দেবপুর-রাজশাহী (২২৭ কিলোমিটার), জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ (১০০ কিলোমিটার) এবং হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর (১৭০ কিলোমিটার)। পরিকল্পনা অনুসারে প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে, যাতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিকটতম যান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে। সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে এই সেবা।
এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬০টি ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স অ্যাম্বুলেন্স’ এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি মোটরসাইকেল হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের (বিআরএসপি) আওতায় বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে এই ৬০টি যান মোতায়েন করা হচ্ছে।
সেবাটি পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে। নির্ধারিত হটলাইনে দুর্ঘটনার সংবাদ এলে অপারেটর ঘটনাস্থল, দুর্ঘটনার ধরন ও আহতের সংখ্যা জেনে নেবেন। এরপর নিকটবর্তী প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, অ্যাম্বুলেন্স চালক, মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সুপারভাইজারের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করবেন; তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিকটস্থ সাইট অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে। প্রয়োজনে কল সেন্টার ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করবে।
প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে বিএমডিসি-নিবন্ধিত তিনজন করে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ আট ঘণ্টার পালায় দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যায়। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগের সময়টুকু কাজে লাগাতে নির্বাচিত করিডোরে প্রতি ২০০-৩০০ মিটার অন্তর দুজন করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন এবং প্রত্যেককে ফার্স্ট এইড বক্স ও পরিচিতিমূলক পোশাক দেওয়া হবে। দ্রুত সাড়ার সক্ষমতা বাড়াতে হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি মোটরসাইকেলও হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনায় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সড়ক পরিবহন, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য—এই তিন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষ্য, নিরাপদ সড়কের জন্য একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে, যা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন স্ক্র্যাপ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ বাজার সরানো, সড়কের সংযোগস্থল ও মার্কিং উন্নত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন করেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




