দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৫তম বিসিএস-এর নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বুধবার রাতে প্রকাশিত এই গেজেটে ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) মোট ১ হাজার ৮০৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ১০৫ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় চার বছর সময় লেগেছে। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। ২০২৩ সালের ১৯ মে অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জন, যাদের মধ্যে ১২ হাজার ৭৮৯ জন উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে ৬ হাজার ৫৫৮ জন সফল হন। মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ, বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল পেতে তিন বছর এবং এরপর প্রজ্ঞাপন হতে আরও প্রায় ১১ মাস সময় লেগেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নবনিযুক্তদের বেতন স্কেল হবে গ্রেড-৯ (৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা)।

নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রার্থীরা দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা প্রয়োজনে সরকার আরও দুই বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে। তৃতীয়ত, একজন জামানতদারের উপস্থিতিতে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড সম্পাদন করতে হবে। এই শর্ত অনুযায়ী, শিক্ষানবিশকালে অথবা শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণ期间ের যাবতীয় বেতন-ভাতা ও সরকারি ব্যয় প্রার্থীর ফেরত দিতে হবে। এছাড়া, কোনো বিদেশি নাগরিককে বিবাহ করে থাকলে বা বিবাহ করার অঙ্গীকারবদ্ধ হলে নিয়োগপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।