যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক কাঠামোর এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট অনুদানের ৮৯ শতাংশই প্রদান করেছেন মাত্র ২ শতাংশ দাতা। যদিও সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে উচ্চশিক্ষায় অনুদানের পরিমাণ ৪ শতাংশ বেড়ে ৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, তবে এই অর্থের সিংহভাগই মুষ্টিমেয় কিছু ধনকুবেরের হাতে সীমাবদ্ধ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু রেকর্ড পরিমাণ অনুদান এসেছে। বিনিয়োগকারী কেন গ্রিফিন কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটিতে মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রদান করে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে নাইকি-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফিল এবং পেনি নাইট ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে ক্যান্সার গবেষণার জন্য ২ বিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন। এছাড়া ডেল কম্পিউটারের সিইও মাইকেল ডেল এবং তার স্ত্রী সুসান টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিনে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছেন। এছাড়া কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ডেভিড ডাফিল্ড ৩৭১ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের অনুদানগুলোর বেশিরভাগই নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেয়। ২০২৪ সালে শর্তহীন অনুদানের হার ৭ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছিল।

বর্তমানে মার্কিন উচ্চশিক্ষা খাত বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ, যেমন—গবেষণার অর্থায়ন হ্রাস, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাপের মুখে পড়েছে। ২০১৭ সালের কর সংস্কার এবং ২০২৫ সালের নতুন কর ও ব্যয় প্যাকেজের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের এন্ডোমেন্ট বা স্থায়ী তহবিলের ওপর করের বোঝা বেড়েছে। এছাড়া জাতিগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোনো প্রোগ্রাম পরিচালিত হলে বেসরকারি স্কুলগুলোর কর-মুক্ত মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি জনসংখ্যাগত সমস্যাও প্রকট হচ্ছে। জন্মহার হ্রাসের ফলে উচ্চশিক্ষার যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে এবং অনেক শিক্ষার্থী এখন কলেজ যাওয়া থেকে বিরত থাকছে। আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়লেও অনেক পরিবার শিক্ষার খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ১৬টি কলেজ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে, যার মধ্যে ইন্ডিয়ানার মার্টিন ইউনিভার্সিটি এবং ভারমন্টের স্টারলিং কলেজ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে অন্তত ৪০টি কলেজ অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে একীভূত হয়েছে।

এই সংকট উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা তিন ধরণের কৌশলগত অনুদানের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, 'পুলিং ডোনেশন' বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান একত্রিত করা। যেমন, ২০১৫ সালে সুইট ব্রায়ার কলেজকে রক্ষা করতে ১.৫০ ডলার থেকে শুরু করে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ছোট-বড় অনেক অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, শর্তহীন অনুদান প্রদান করা। ব্রান্ডেইস, ইন্ডিয়ানা এবং প্রিন্সটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অনুদান উৎসাহিত করছে যা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতার প্রাক্তন স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কট এই ধরণের শর্তহীন অনুদানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যিনি বিভিন্ন নিম্ন-আয়ের এবং বৈচিত্র্যময় ছাত্রসংখ্যার কলেজে ২৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করেছেন। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। কেবল টিউশন ফি নয়, বরং বইপত্র এবং যাতায়াত খরচের মতো ছোট ছোট প্রয়োজনগুলো মেটাতে দাতা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়।