যুক্তরাষ্ট্রের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালনা প্রযুক্তির অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান ওয়েমো (Waymo) তাদের ব্যবসার পরিধি প্রসারে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৮ সালের মধ্যে তারা সিঙ্গাপুরে তাদের রোবোট্যাক্সি পরিষেবা শুরু করবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রথমবার প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই মার্কিন কোম্পানি। উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েকদিন আগে এশিয়ায় তাদের প্রথম বাজার হিসেবে জাপানে প্রবেশের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল ওয়েমো। এর পাশাপাশি জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যেও তাদের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালুর রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

ওয়েমোর সহ-সিইও টেকেড্রা মাওয়াকানা এক প্রেস রিলিজে বলেন, সিঙ্গাপুরের পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত নিরাপদ এবং আধুনিক, যা তাদের জন্য আদর্শ। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মতামত গ্রহণ, দক্ষ স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান বিশ্বমানের গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার কথা জানাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী মাসগুলোর মধ্যেই তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক জাগুয়ার আই-পেস (Jaguar I-PACE) গাড়িগুলো সিঙ্গাপুরে পৌঁছাবে। এরপর ২০২৭ সালে একটি প্রশিক্ষণ পর্যায় শুরু হবে, যেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় রাস্তা এবং আবহাওয়া অনুযায়ী গাড়িগুলোকে প্রস্তুত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ম্যানুয়াল ড্রাইভিং পরিচালনা করবেন। সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী জেফরি সিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি সিঙ্গাপুরবাসীদের জন্য নতুন ধরনের যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি করবে। তিনি স্বয়ংক্রিয় যানবাহনকে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি 'গেম-চেইঞ্জার' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সিঙ্গাপুরের রাস্তায় প্রচুর পরিমাণে এ ধরনের গাড়ি দেখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সিঙ্গাপুর বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের একটি অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বাজার। চীনের রোবোট্যাক্সি প্রতিষ্ঠান উইরাইড (WeRide) এবং পনি এআই (Pony AI) ইতোমধ্যে রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম গ্র্যাব (Grab) ও কমফোর্টডেলগ্রো-র সাথে অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। বর্তমানে তারা পুঙ্গোল জেলায় স্বায়ত্তশাসিত শাটল পরিষেবা পরিচালনা করছে, যা সরকার ফিজিক্যাল এআই প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, জাপানে রোবোট্যাক্সির বাজার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যদিও উবার, নিসান এবং ব্রিটিশ স্টার্টআপ ওয়েভ ২০২৬ সালের শেষ দিকে টোকিওতে একটি পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করতে যাচ্ছে, তবে ওয়েমো তাদের পরিষেবা ২০২৭ সালে চালু করার পরিকল্পনা করেছে। জাপানি ট্যাক্সি অ্যাপ অপারেটর 'গো' (GO) এবং ট্যাক্সি কোম্পানি 'নিহন কোতসু'-র সাথে অংশীদারিত্বে এই কার্যক্রম চলবে। জাপানের দ্রুত হ্রাস পাওয়া জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে সেখানে এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক এই দ্রুত প্রসারে পেশাদার চালকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগ দূর করতে সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী জেফরি সিও সম্প্রতি সংসদীয় ভাষণে জানান, সিঙ্গাপুরে বর্তমানে ৭০ হাজারেরও বেশি ট্যাক্সি ও প্রাইভেট-হায়ার চালক রয়েছেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। তার মতে, বিশ্বের সমস্ত স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সিঙ্গাপুরে নিয়ে আসা হলেও তা মোট চালক সংখ্যার ১০ শতাংশের কম হবে, তাই তাৎক্ষণিক কোনো বড় ঝুঁকি নেই।