অবসরকালীন সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে আইআরএ (ব্যক্তিগত অবসর হিসাব) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট অবসর-বাজার সম্পদের ৩৯ শতাংশই আইআরএতে জমা রয়েছে এবং ৪৪ শতাংশ আমেরিকান পরিবার এই হিসাবের মালিক।
নিজের সঞ্চয়ের অগ্রগতি যাচাই করতে বয়সভিত্তিক গড় এবং মধ্যমা হিসাবের তুলনা করা কার্যকর পদ্ধতি। বড় অঙ্কের ব্যালেন্সের কারণে গড় হিসাব অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই মধ্যমা হিসাবটি আরও বাস্তবসম্মত চিত্র দেয় — যেখানে অর্ধেক সঞ্চয়কারীর ব্যালেন্স এই সংখ্যার বেশি এবং বাকি অর্ধেকের কম। ফলে দুই সূচকই বিবেচনায় রাখা উচিত।
বয়সভিত্তিক গড় সঞ্চয়ের সঙ্গে নিজের ব্যালেন্স মেলালে বোঝা যায় জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সঞ্চয়ের হার কেমন পরিবর্তিত হয় এবং অবসরের আগেই কোনো ঘাটতি আছে কি না। বয়সের তুলনায় সঞ্চয় কম থাকলে মাসিক কিস্তির পরিমাণ বাড়ানো বা বিনিয়োগের ধরন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, গড়ের চেয়ে বেশি সঞ্চয় থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। বয়সভিত্তিক মানদণ্ড 'আমি কি যথেষ্ট সঞ্চয় করছি?' প্রশ্নটিকে একটি কংক্রিট আর্থিক যাচাইয়ে রূপ দেয়।
গড় বা মধ্যমা কখনোই ব্যক্তিগত লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং সেগুলো সতর্কবার্তা বা পরিকল্পনার চেকপয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। আবাসন খরচ, সন্তানের কলেজ শিক্ষার ব্যয়, অবসরে মাসিক খরচ — সবকিছু ঠিক করতে এই সূচক সাহায্য করে।
ট্র্যাডিশনাল ও রথ আইআরএ-র কর সুবিধা ভিন্ন সময়ে মেলে। ট্র্যাডিশনাল আইআরএ-তে যোগ্য অবদান বর্তমান করের বোঝা কমায়, কিন্তু উত্তোলনের সময় কর দিতে হয়। রথ আইআরএ-তে কর-পরবর্তী অর্থ জমা হয়, ফলে অবসরে উত্তোলন করমুক্ত। এই পার্থক্য প্রতিটি ডলারের কর-পরবর্তী মূল্যকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, ট্র্যাডিশনাল আইআরএ থেকে ১ লাখ ডলার তুললে ২০ শতাংশ কর বাদে হাতে আসবে ৮০ হাজার ডলার, কিন্তু রথ আইআরএ থেকে সমান অঙ্ক তুললে পুরো টাকাই করমুক্ত থাকবে।
উত্তোলনের নিয়মেও পার্থক্য রয়েছে। ট্র্যাডিশনাল আইআরএ-তে নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে আবশ্যক ন্যূনতম বিতরণ (আরএমডি) শুরু করতে হয়, যা অবসরে করযোগ্য আয় বাড়িয়ে দিতে পারে। রথ আইআরএ-তে জীবদ্দশায় আরএমডি নেই, ফলে অবসরে আয় ব্যবস্থাপনায় বেশি নমনীয়তা থাকে।
সাম্প্রতিক আইআরএস তথ্য অনুযায়ী, সব বয়স মিলিয়ে ট্র্যাডিশনাল আইআরএ-র গড় ব্যালেন্স ২ লাখ ২৫ হাজার ৪১৩ ডলার এবং রথ আইআরএ-র গড় ৫৭ হাজার ৪৫০ ডলার। এই তথ্য ২০২৩ করবছরের, যা ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত হয়েছে। আইআরএস মধ্যমা হিসাব প্রকাশ করে না, তাই এমপাওয়ার নামের প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের মধ্যমা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। দুই উৎসের জনগোষ্ঠী ও সময়কাল ভিন্ন হওয়ায় এগুলোকে পরস্পরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখা উচিত।
আয়, নিয়মিত অবদান এবং বাজারের অবস্থা — এই তিনটি প্রধান কারণ আইআরএ ব্যালেন্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আয় বাড়লে সঞ্চয়ের পরিমাণ আনুপাতিক হারে বাড়ানো জরুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চেয়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রতিটি বেতন দিনে স্বয়ংক্রিয় কিস্তি স্থানান্তর নিয়মিত সঞ্চয়কে সহজ করে। দীর্ঘ সময় বিনিয়োগে থাকলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। তবে বাজারের ওঠানামায় ব্যালেন্স ওঠানামা করতে পারে, তাই বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পদ বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ। বয়স কম থাকলে ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা বেশি, কিন্তু অবসরের কাছাকাছি এসে বাজারের অস্থিরতা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
২০২৬ সালে ট্র্যাডিশনাল ও রথ আইআরএ-র সম্মিলিত বার্ষিক সীমা ৭ হাজার ৫০০ ডলার, আর ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ১০০ ডলারের ক্যাচ-আপ সুবিধা রয়েছে। অবদানের পরিমাণ বার্ষিক করযোগ্য আয়ের বেশি হওয়া যাবে না; অতিরিক্ত জমা হলে ৬ শতাংশ আবগারি কর দিতে হতে পারে।
ট্র্যাডিশনাল আইআরএ অবদানের করছাড় নির্ভর করে আয় ও কর্মক্ষেত্রের অবসর পরিকল্পনার ওপর। ২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্র পরিকল্পনায় আওতাভুক্ত একক করদাতার জন্য করছাড় সীমা ৮১ হাজার থেকে ৯১ হাজার ডলারের মধ্যে, আর যৌথ করদাতার জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ডলার। রথ আইআরএ-র ক্ষেত্রে আয়সীমা ভিন্ন — একক করদাতার জন্য ১ লাখ ৫৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ডলার এবং যৌথ করদাতার জন্য ২ লাখ ৪২ হাজার থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ডলার।
নিজের ব্যালেন্স গড় ও মধ্যমার সঙ্গে তুলনা করে অবস্থান বোঝা যায়। যেমন, ৪০ বছর বয়সে কারও ট্র্যাডিশনাল আইআরএতে ৫০ হাজার ডলার থাকলে তা গড় (৬৫ হাজার ৪১০ ডলার) থেকে কম কিন্তু মধ্যমা (৪২ হাজার ৪২৭ ডলার) থেকে বেশি। তবে পুরো চিত্র পেতে অন্যান্য অবসর সঞ্চয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। ফিডেলিটির পরামর্শ অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সে বার্ষিক আয়ের সমান, ৪০-এ তিন গুণ, ৫০-এ ছয় গুণ, ৬০-এ আট গুণ এবং ৬৭-এ দশ গুণ সঞ্চয় থাকা উচিত।
অবসরে মাসে কত খরচ হবে, তা হিসাব করে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও পেনশনের পর অবশিষ্ট অংশ আইআরএ থেকে পূরণ করতে হবে। ঘাটতি থাকলে অবদানের হার বাড়ানো, বোনাস থেকে সঞ্চয়, ৫০ বছর বয়সের পর ক্যাচ-আপ সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার ম্যাচিং সুবিধা কাজে লাগানো যেতে পারে। বিনিয়োগের বৈচিত্র্য, ফি এবং নগদ অর্থের পরিমাণ পর্যালোচনা করাও জরুরি। প্রয়োজনে অবসর পিছিয়েও সময় বাড়ানো যায়।
৪০১(কে)-এর মতো কর্মক্ষেত্র পরিকল্পনার পাশাপাশি আইআরএতে একই বছরে অবদান রাখা যায়, কারণ দুটির সীমা আলাদা। তবে আয় ও কর্মক্ষেত্র পরিকল্পনার অংশগ্রহণ ট্র্যাডিশনাল আইআরএ করছাড় এবং রথ আইআরএ যোগ্যতা সীমিত করতে পারে।




