এক দশকেরও বেশি সময় পর ইসলামী ফ্রন্টের নেতা এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকীর হত্যা ও ডাকাতির মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম অভিযুক্ত ছয় আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
আদালতে অভিযুক্ত হিসেবে named করা হয়েছেন আবদুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, হাদিসুর রহমান সাগর, মাহমুদ ইবনে বাশার এবং রফিকুল ইসলাম ফারদীন। শুনানির দিন জামিনে থাকা নাহিদ, রিপন ও হাদী সশরীরে আদালতে উপস্থিত হন এবং তাদের আইনজীবী জায়েদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন আইনজীবীর মাধ্যমে অব্যাহতি পাওয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে, কারাগারে বন্দি আসামি সাগরকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করা হয় এবং বাশার ও ফারদীন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশ ওই রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ফারুকীর পুত্র ফয়সাল ফারুকী শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুর্বৃত্তরা কলিং বেল চেপে ফারুকীর বাসায় প্রবেশ করে। শুরুতে দুজন কথা বলতে বসলেও পরবর্তীতে আরও ছয়-সাতজন ভেতরে ঢোকে। বসার ঘরে চেয়ার আনতে যাওয়া ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ফিরে এসে দেখেন, আসামিরা ফারুকীর মাথায় চাপাতি ও পিস্তল ঠেকিয়ে রেখেছেন। এরপর বাড়ির সদস্যদের বেঁধে রাখা হয় এবং ফারুকীকে হত্যা করা হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা লুট করে নিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কে এম আবুল কাশেম ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যদিও এটি একটি হত্যা মামলা, তবে তদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতি—উভয় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।




