রাজধানীর জিগাতলা থেকে হাজারীবাগের দিকে যাওয়ার পথে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পণ্যবাহী গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল ব্যক্তি গাড়িটির গতি রোধ করে এই হামলা চালায়। অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড ব্যবহার করে গাড়িতে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর করে এবং চালক মিজানুর রহমানকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে তাকে মারধর করে। এতে মিজানুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত occurs এবং তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এজেআর গ্রুপের কর্মকর্তা জয়ন্ত চৌধুরী জানান, হামলাকারীরা গাড়ির সামনের ও পাশের কাচ এবং লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলে। তিনি জানান, চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে কিল-ঘুষি ও লোহার রড দিয়ে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে ধানমন্ডি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ধানমন্ডি থানার এসআই শাহজালাল মিয়া জানান, গাড়িটি ধীরগতিতে চলার সময় হঠাৎ এই হামলা ঘটে। হামলাকারীরা জানালার ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মারধর শুরু করে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, হামলাকারীরা গাড়ি থেকে কোনো টাকা-পয়সা বা মোবাইল ফোন ছিনতাই করেনি, কেবল গাড়ির ক্ষতি সাধন করেছে। আহত চালক হাসপাতালে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি এবং হামলাকারীদের উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য যে, এই কুরিয়ার সার্ভিসের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু সহিংস ঘটনা জড়িত। গত ২০ অক্টোবর রাতে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ারের প্রধান কার্যালয় ও গুদামে মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ল্যাপটপ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ডিভিআর লুট করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ভাড়া দাবির অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দীনের করা মামলায় ইমনসহ ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গত ৩ নভেম্বর মিরপুর-১১ নম্বরের চলন্তিকা মোড়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি কার্যালয়ের সামনে দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাতে একজন কর্মী আহত হন।