আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এক বড় ধাক্কা খেল দলের দুই পক্ষই। ভারতের নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিবদমান কোনো পক্ষই দলের ঐতিহ্যবাহী 'জোড়া ফুল' প্রতীক এবং 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নামটি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হলে উভয় পক্ষকেই বিকল্প কোনো প্রতীক বেছে নিতে হবে।

দলের মালিকানা এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতে দুই পক্ষের পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে কমিশন ঘোষণা করে যে, আপাতত 'জোড়া ফুল' প্রতীকটি স্থগিত রাখা হবে। দলের নাম, তহবিল, প্রতীক এবং অন্যান্য সম্পদের চূড়ান্ত মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর—এই দুটি বিধানসভা আসনে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যার ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর এবং প্রত্যাহারের সময়সীমা ১৯ সেপ্টেম্বর। এই নির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই পক্ষই নিজেদের দাবি জানিয়ে 'জোড়া ফুল' প্রতীকের জন্য আবেদন করেছিল।

প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার শুনানি হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কমিশন উভয় পক্ষের কাছে অতিরিক্ত নথিপত্র দাবি করে, যা ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। সেই নথিপত্র এবং শুনানির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুনানির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ এবং একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষের হয়ে অরূপ রায়, আমন ঝা, আখতারুজ্জামান এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কথা বলেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দল গঠন করেন এবং নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেন 'জোড়া ফুল'। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের ভেতরে তীব্র ফাটল ধরে। নেতৃত্বের ধরন এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে গিয়ে পৃথক পক্ষ গঠন করেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী বিধায়করা পাল্টা তৃণমূল গঠন করার পর বিধানসভায় তাঁদের বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন কমিশনের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত এই দুই সংঘাতময় পক্ষকেই বিকল্প প্রতীকের আশ্রয় নিতে হচ্ছে।