আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ১৯ বছর আগে ডারবানের কিংসমিডে যুবরাজ সিংয়ের সেই বিধ্বংসী ব্যাটিং। ইংল্যান্ডের তরুণ বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডকে সম্পূর্ণ অসহায় করে দিয়ে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ভারতের এই অলরাউন্ডার। প্রথম বলটি গিয়েছিল মিড উইকেটের ওপর দিয়ে, দ্বিতীয়টি ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ, তৃতীয়টি এক্সট্রা কাভার, চতুর্থটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট এবং শেষ দুটি বল যথাক্রমে মিউ উইকেট ও মিড অন দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে পড়েছিল।

সেই সময়ের পর থেকে ক্রিকেট খেলার ধরন এবং ব্যাটসম্যানদের কৌশলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা এবং ব্যাটিং ব্যাকরণের বিবর্তনের ফলে এখন আর এই কীর্তি খুব অভাবনীয় মনে হয় না। তবে যুবরাজের সেই রাজকীয় রেকর্ডটি দীর্ঘ ১৪ বছর অটুট ছিল, যা নিজেই একটি বিস্ময়। অবশেষে ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার স্পিনার আকিল ধনঞ্জয়ার বিপক্ষে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মেরে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড।

এরপর আরও কয়েকজন এই অভিজাত ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। ২০২৪ সালে কাতারের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েন নেপালের দীপেন্দ্র সিং ঐরি, যিনি ওই ম্যাচে মাত্র ৯ বলে ফিফটি করে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছিলেন। একই বছর ভানুয়াতুর বিপক্ষে ছয় ছক্কা হাঁকান সামোয়ার ড্যারিয়াস ভিসা। ২০২৫ সালে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন বুলগেরিয়ার মানান বশির। সবশেষে চলতি বছর চীনের বিপক্ষে ছয়টি ছক্কা মেরে তালিকায় নাম লেখান নেপালের কুশল ভুর্তেল। লক্ষণীয় যে, এই বিশেষ তালিকায় নেপালের দুজন ক্রিকেটার স্থান পেয়েছেন।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুবরাজের আগে অন্য ফরম্যাটেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৬ বলে ৬ ছক্কা মেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস। এমনকি ১৯৬৮ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ম্যালকম ন্যাশের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স এবং পরবর্তীতে রঞ্জি ট্রফিতে একই কাজ করেন রবি শাস্ত্রী।

যুবরাজের সেই ঐতিহাসিক ওভারের পেছনে ছিল মানসিক জেদ এবং ক্রোধ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ডিমিত্রি মাসকারেনহাস যুবরাজের ওভারে টানা পাঁচটি ছক্কা মেরেছিলেন, যার ক্ষত তখনো ছিল তার মনে। তার ওপর ম্যাচের দিন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বা স্লেজিং যুবরাজকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্টুয়ার্ট ব্রডের ওপর। তবে সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্তটি ছিল স্টুয়ার্ট ব্রডের বাবা ক্রিস ব্রডের জন্য, কারণ ওই ম্যাচে তিনি ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং নিজের চোখের সামনেই ছেলের বল গ্যালারিতে পড়তে দেখেছিলেন।