জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এবারের আসরে বাংলাদেশ মোট ২২টি খেলায় অংশ নিচ্ছে, যেখানে ২৭৪ জনের একটি বহর পাঠানো হয়েছে। এই বহরে রয়েছেন ১৮৭ জন খেলোয়াড়, ৩৭ জন কোচ, ৪৩ জন কর্মকর্তা, ৫ জন চিকিৎসক এবং ২ জন প্রেস অ্যাটাশে। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৪৬টি দেশের প্রায় ১১ হাজার অ্যাথলেট ৪৩টি খেলার মোট ৭১টি ডিসিপ্লিনে লড়াই করছেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যাশা, ক্রিকেট, কাবাডি এবং বক্সিং—এই তিনটি প্রধান খেলায় বাংলাদেশ পদক জিততে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এই ডিসিপ্লিনগুলোতেই বাংলাদেশ আগে সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে কাবাডি থেকে এশিয়ান গেমসে সর্বোচ্চ সাতটি পদক এসেছে। ক্রিকেটে এসেছে ছয়টি পদক, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র স্বর্ণপদক। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ইভেন্টে বক্সিংয়ের একমাত্র পদকটি ১৯৮৬ সালে মোশাররফ হোসেন জিতেছিলেন। সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবার রিংয়ে নামছেন উৎসব আহমেদ ও সেলিম হোসেন। আগামী সোমবার থেকে তাদের লড়াই শুরু হবে। ২০২২ আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে পদক মিস করা সেলিম হোসেন এবার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, অভিষেক আসরেই পদক জয়ের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন উৎসব আহমেদ। এই তিনটি খেলা ছাড়াও শুটিং, আর্চারি, উশু, জুডো ও কারাতেতে সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ।
তবে শুরুটা সুখকর হয়নি পুরুষ হকি দলের। পুল ‘এ’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথম কোয়ার্টারে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও, দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ২১ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে পিটার গেরহার্ডের দল। এরপর ৩২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন ইয়াং জিহুন এবং ৫৮ মিনিটে শিম জ্যা-ওন ফিল্ড গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণ ছিল নিস্প্রভ এবং বল দখলের হার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এশিয়ান গেমসে ছয় ম্যাচের হিসেবে ছয়বারই হেরেছে বাংলাদেশ। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের মুখোমুখি হবে তারা।
আগামীকাল থেকে আরও ২০টি ইভেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে সুইমিং, ব্যাডমিন্টন, হকি, কারাতে, শুটিং, টেবিল টেনিস এবং উশু। বিশেষ করে নারী ক্রিকেট দল ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে এবং নারী হকি দল খেলবে চীনের বিপক্ষে। উল্লেখ্য, মূল পর্বের প্রথম দিনে বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল ও টেকবলের খেলা থাকলেও এই ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের কোনো অংশগ্রহণ নেই।




