ভারতীয় উইমেন’স সিনিয়র টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে এক অবিশ্বাস্য বোলিং প্রদর্শন করলেন ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার বৈশনাভি শার্মা। শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিপক্ষে মধ্যপ্রদেশের হয়ে খেলতে নেমে তিনি চার ওভারে মাত্র ২২ রান খরচ করে ৬টি উইকেট শিকার করেন। তবে তার এই বোলিংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ম্যাচের শেষ দিকে।

ম্যাচের পঞ্চম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে আসা বৈশনাভি তিন ওভারে ১৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। এরপর ইনিংসের শেষ আগের ওভারে তাকে পুনরায় বোলিংয়ে আনা হয়। ওভারের শুরুটা তেমন সুখকর ছিল না; প্রথম বলে দুই রান এবং দ্বিতীয় বলে চার রান হজম করতে হয় তাকে। কিন্তু এরপরেই ঘটে এক নাটকীয় মোড়। বৈশনাভি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা তিনটি বলে তিনটি উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং ওভারের একদম শেষ বলে আরও একটি উইকেট নেন। এভাবে শেষ চার বলে তিনি চার উইকেট নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই বিশেষ কীর্তি করা দ্বিতীয় ভারতীয় নারী ক্রিকেটার তিনি; এর আগে ২০২২ সালে সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের হয়ে অনুরূপ সাফল্য পেয়েছিলেন হুমায়রা কাজী।

বৈশনাভির এই সাফল্য তার সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ফর্মেরই বহিঃপ্রকাশ। গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হওয়া এই বোলার এখন পর্যন্ত পাঁচ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওভারপ্রতি ৬.২৬ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুই ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি, যার মধ্যে শেষ ম্যাচে ৩৯ রানে ৫ উইকেট ছিল। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষেও তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া; তিনটি ওয়ানডেতে ৮ উইকেট এবং আনঅফিসিয়াল টেস্টে দুটি ভিন্ন ইনিংসে যথাক্রমে ৬টি ও ৩টি উইকেট নেন তিনি।

রেকর্ডের খতিয়ানে বৈশনাভির নাম আরও আগে যুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে চার ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এবং পুরো আসরে সর্বোচ্চ ১৭টি উইকেট শিকার করেছিলেন। পাশাপাশি, ২০২৪-২৫ মৌসুমে সিনিয়র উইমেন’স মাল্টি-ডে চ্যালেঞ্জার ট্রফির ফাইনালে এক ইনিংসে ৫০ রানে ৮টি এবং ম্যাচে ১২৮ রানে ১৪টি উইকেট নিয়ে তিনি ভারতীয় হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইনিংস ও ম্যাচ সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন।