অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চান তিনি ও তার দল। আজ ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তার মতে, কোন দলের সঙ্গে কখন খেলা হবে তা খেলোয়াড়দের হাতে নয়; ক্রিকেট বোর্ডই সেই সূচি নির্ধারণ করে। তবুও সদ্যসমাপ্ত সিরিজের অভিজ্ঞতা তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়—নির্দিষ্ট করে ২৩ বছর—পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অনাগ্রহে ২০০৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে আর অস্ট্রেলিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সিরিজের প্রথম ম্যাচ ডারউইনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে হারিয়ে দেয় নয় নম্বরের বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা, ফলে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। এর আগে গত জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিল; সেখানে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টুয়েন্টি খেলা হয়। ওয়ানডে সিরিজে জয় পায় বাংলাদেশ, আর টি–টুয়েন্টিতে জয় লাভ করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে তিন মাসের মধ্যে তিনটি ভিন্ন সংস্করণেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

ক্যারি বলেন, এটি একটি রোমাঞ্চকর সিরিজ ছিল এবং উভয় দল চমৎকার ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে খেলেছে। তার ভাষায়, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট—উভয় ফরম্যাটেই দারুণ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। তিনি আরও জানান, টেস্টে বাংলাদেশকে আরও অনেকবার দেখার আশা করছেন তারা এবং তাদের দল বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও সিরিজ খেলতে আগ্রহী। ম্যাচের পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করা ও আড্ডা দেওয়াও তার কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয় ছিল। অন্যদিকে, সিরিজের আলোচনায় শরীফুল ইসলামের ‘সেরা’ বলের প্রশংসাও ছিল, যা নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল।