লন্ডনের লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হেরে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে ৩৯ বছর আগের ১৯৮৭ সালের ওভাল টেস্টের স্মৃতি ফিরে এসেছে। বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের জয়ের সংখ্যা ১৫৩ এবং হারের সংখ্যা ১৫৪। শেষবারের মতো জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যা বেশি ছিল ১৯৮৭ সালে, যখন জাভেদ মিয়াঁদাদের দ্বিশতক এবং ইমরান খান ও সেলিম মালিকের সেঞ্চুরিতে ৭০৮ রানের বিশাল পুঁজি গড়েও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র করতে হয়েছিল। সেই সময়ের হিসাব ছিল ৩৯-৪০।

পরবর্তীতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জয়ের সমতা আনলেও, এরপর থেকেই পাকিস্তানের পতন শুরু হয়। ২০০৩, ২০০৪ এবং ২০০৬ সালে জয়ের ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৮ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এমনকি ২০১৬ সালেও তারা ১৭ ম্যাচ এগিয়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। শেষ ৭২টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তান মাত্র ২৩টিতে জয়লাভ করেছে এবং হেরেছে ৪১ ম্যাচে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জয়-হারের অনুপাত ছিল ১.১৩৫, যা বর্তমানে নেমে এসেছে ০.৬২৭-এ। এই ব্যবধানের পরিমাণ -০.৫০৮, যা বর্তমান টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাকিস্তানের পর এই পতনের তালিকায় রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (-০.৪৩৭)। এছাড়া ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার জয়-হারের অনুপাতও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে, লাল বলের ক্রিকেটে বর্তমানে দারুণ সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত এবং নিউজিল্যান্ড। গত ১০ বছরের হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া, যাদের জয়-হারের অনুপাত ২.০৩৫। তবে অনুপাতের উন্নতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও এগিয়ে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৬৮টি টেস্টের মধ্যে ২১টিতে জিতে এবং ৪৩টিতে হেরে বাংলাদেশের অনুপাত ০.০৯৮ থেকে বেড়ে ০.৪৮৮-এ দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে এই উন্নতির পার্থক্য ০.৫৩৮। তবে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো উন্নতি ভারতের; ২০১৫ সাল পর্যন্ত যাদের অনুপাত ছিল ০.৮০৮, গত ১০ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ১.৯৩৫। এই সময়ে ৬০টি জয়ের বিপরীতে তারা হেরেছে ৩১টি ম্যাচে। নিউজিল্যান্ডও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তারা ৪৩টি জয়ের বিপরীতে ২৭টি হারে তাদের অনুপাত ১.০৮৩ বৃদ্ধি করেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সর্বশেষ ২০ মাসের হিসাব দেখলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়। এই সময়ে ১১টি টেস্টের মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়ে এবং ৪টিতে হেরে বাংলাদেশ জয়-হারের অনুপাতে চতুর্থ স্থানে রয়েছে (অনুপাত ১.৫)। অন্যদিকে, ৭টি জয় ও মাত্র ১টি হার নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ৩টি জয়ের বিপরীতে ৮টি হার নিয়ে তাদের অনুপাত নেমে এসেছে ০.৩৭৫-এ।