ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে তরুণদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ক বিশেষ বুটক্যাম্প আয়োজন করেছে গ্রামীণফোনের অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম 'গ্রামীণফোন একাডেমি'। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নির্বাচিত ৮০ জন উদীয়মান উদ্ভাবককে তাদের পরিকল্পনাগুলোকে এআই-চালিত ডিজিটাল সল্যুশনে রূপান্তরের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। গত সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় ‘জিপি হাউস’-এ এই বুটক্যাম্পের চূড়ান্ত পিচিং অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের মূলত বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা, সেগুলোর জন্য এআই-ভিত্তিক সমাধান তৈরি করা এবং সেই সমাধানগুলোকে একটি ব্যবহারযোগ্য পণ্যে পরিণত করার কৌশল শেখানো হয়। বুটক্যাম্পের সমাপনী পর্যায়ে একটি পিচিং ইভেন্টের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের উদ্ভাবিত প্রজেক্টগুলো উপস্থাপন করেন। প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান অধিকার করেছে 'ট্রেজেক্টরি' নামক একটি প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত ও দক্ষতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যারিয়ার গাইডলাইন এবং প্রশিক্ষণের পরামর্শ প্রদান করে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে এআই-চালিত হেলথকেয়ার হাব 'মাইজিপি কেয়ার'। আর দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে 'প্রজেক্ট লাইফলাইন', যা জরুরি অবস্থায় ব্যবহারকারীদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী তিনটি দলের সদস্য এক বছরের জন্য বিনামূল্যে প্রিমিয়াম এআই টুলস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এছাড়া তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে বিশেষজ্ঞ মেন্টরদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, বর্তমানে এআই আমাদের কাজ করার এবং শেখার ধরন দ্রুত পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এই রূপান্তরের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তরুণদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামীণফোন একাডেমির মূল লক্ষ্য কেবল শিক্ষাদান নয়, বরং তরুণরা যেন তাদের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান করতে পারে এবং অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানটিতে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অফিসার আন্দ্রেয়াস হগবার্গ এবং হেড অব এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল গভার্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলামসহ একাডেমির শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




