গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার চেরাগআলীতে অবস্থিত ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামক একটি ওষুধ কারখানায় বুধবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মো. তালহা বিন জসিম নামের একজন মিডিয়া সেল কর্মকর্তা জানান, আগুনের তীব্রতা মোকাবিলায় একে একে ২০টি ইউনিট সেখানে মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে অগ্নি নির্বাপণের এই যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনী এবং বিজিবি-র সদস্যরাও অংশ নেন। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তা পুরোপুরি নেভাতে সময় লেগেছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের ৫ তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং কাঁচের তৈরি ভবন হওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল বলে মনে করেন টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। আগুনের তীব্র তাপ এবং কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিকের ঝাঁঝালো গন্ধে চারপাশের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, যা ফায়ার ফাইটারদের জন্য ভেতরে প্রবেশ করা এবং আগুনের উৎস শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।
ঘটনার শুরুতে কারখানার নিজস্ব পানির ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও এক পর্যায়ে পানির সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুর, টঙ্গী ও উত্তরাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর কাজ চালানো হয়। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, এটি একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা যেখানে ৩৮৫ জন শ্রমিক কর্মরত। দুপুর পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন ওষুধ, কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সঠিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। আগুনের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানার মালিক ডা. মো. আমজাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি তদারকি করছেন।




