শৈশবে যেখানে বই-খাতা আর খেলার মাঠের কথা থাকে, সেখানে চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশুকে বেছে নিতে হচ্ছে ইটভাটার কঠিন শ্রম। জামালপুরের দুই শিশুর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এই করুণ বাস্তবতা, যেখানে অভাব কীভাবে একটি শিশুর স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।

রাজু নামের এক শিশুর সাথে কথা বলে জানা যায়, তার পরিবারের চরম অভাব-অনটনের কারণেই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে ইটভাটায় কাজে নামতে হয়েছে। যে বয়সে তার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের আর্থিক সহায়তা করতে তাকে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। ফলে তার পড়াশোনা ও বিশ্রামের সুযোগ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, সবুজ নামের অপর এক শিশু তার ইটভাটার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছে, সেখানে তাদের দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হতো, কিন্তু বিনিময়ে মজুরি দেওয়া হতো অত্যন্ত সামান্য। দীর্ঘদিনের এই কঠোর পরিশ্রম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সে এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়। জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে সে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

এই দুই শিশুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয় যে, ইটভাটায় শিশুশ্রমের সাথে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নিম্ন মজুরি এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। কাজের প্রচণ্ড চাপে শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার যেমন—শিক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের শিকার হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে কোনো শিশুকে অভাবের তাড়নায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যুক্ত হতে না হয়।