গ্রুপ পর্বে টানা দুই পরাজয়ের পর শেষ ম্যাচে দারুণ এক জয় তুলে নিল বাংলাদেশের নারী লিগের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারস। মালয়েশিয়ার লিকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের আসরের নিজেদের শেষ খেলায় গুয়ামের রোভার্স এফসিকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে গোলাম রব্বানীর শিষ্যারা। দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন তহুরা খাতুন।
এবারের টুর্নামেন্টে 'এ' গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রোভার্স গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে মোট ৩৩ গোল হজম করেছে। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া রাজশাহী তাদের যাত্রা শুরু করেছিল কলকাতার ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষে ৪-০ গোলের হারের মাধ্যমে। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসির বিপক্ষেও ২-১ গোলে হেরে বসে তারা। ফলে শেষ ম্যাচের আগেই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল। কোনো চাপ ছাড়াই খেলতে নামা রাজশাহীর খেলোয়াড়দের নির্ভার মানসিকতা যেন মাঠের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফুটে উঠল।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণের ঝড় তোলে তহুরা-মনিকারা। তৃতীয় মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় দলটি। ডিফেন্ডার শামসুন্নাহারের লং শট আটকাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন রোভার্সের গোলকিপার দেসেহা মেন্দিওলা, আর বল জড়িয়ে যায় জালে। এরপর ১৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত ধরে এগিয়ে যাওয়া মোসাম্মত সুলতানার পাস বক্সে পেয়ে আলতো টোকায় বল জালে পাঠান তহুরা। ২৫ মিনিটে আবারও গোল করেন তিনি। তাতেই প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় রাজশাহী।
বিরতির পরও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখে রাজশাহী স্টারস। একের পর এক আক্রমণে রোভার্সের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে থাকে তারা। ৫২ মিনিটে মনিকা চাকমার পাস থেকে দারুণ ড্রিবল করে পোস্টের কোনাকুনি দিয়ে গোল করেন স্বর্ণা রানী। এর মাত্র এক মিনিট পরেই গোলকিপারকে একা পেয়ে ব্যবধান ৫-০ করেন মনিকা নিজেও। ৬০ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা, একই সঙ্গে দলের গোলসংখ্যাও ছয়ে পৌঁছে যায়।
৭১ মিনিটে রোভার্সের এলোমেলো রক্ষণকে কাজে লাগিয়ে একাই লক্ষ্যভেদ করে সপ্তম গোলটি করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র আরেকটি গোল যোগ করলে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ম্যাচের এই বড় জয়টি দলের জন্য কিছুটা হলেও সান্ত্বনা হয়ে থাকল।




