অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ টেস্টে ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছিল চরম লজ্জা। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে পরাজিত হতে হয় দলটিকে। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২১০ রান সংগ্রহ করেই ইনিংস ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি প্রথম ঘটনা, যেখানে বাংলাদেশ দুই দিনের মধ্যে ম্যাচ হেরেছে এবং উভয় ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছে।

এই বিধ্বস্ত পরাজয়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বুঝতে পেরেছেন, খারাপ দিনে ভালো দিনের মূল্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিরিজ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ৯ উইকেটের জয়ের গুরুত্ব এখন তার কাছে আরও গভীরভাবে স্পষ্ট হয়েছে। ডাগআউটে বসে কিংবা স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তিনি অনুভব করেছিলেন যে তারা সত্যিই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দলকে পরাজিত করেছেন। প্রথম টেস্ট জয়ের পর ব্যক্তিগতভাবে তার মধ্যে তেমন উত্তেজনা কাজ করেনি; কিন্তু ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার দাপট এবং নিজের দলের দুর্বলতা দেখে গত দুদিনে তার উপলব্ধি হয়েছে—ডারউইনের জয় ছিল অত্যন্ত মূল্যবান একটি ম্যাচ জয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ম্যাকাইয়ের এই লজ্জাজনক হার কি ডারউইনের জয়কে ম্লান করে দিল? উত্তরে নাজমুল স্পষ্টভাবে জানান, প্রথম টেস্টের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। দেশের মানুষেরও তা মনে আছে। এটি অনেক বড় অর্জন। এই ম্যাচে দল ভালো খেলেনি, এটি হতে পারে; তবে বোঝা দরকার কোন দলকে হারানো হয়েছে—এই ম্যাচ দেখলেই সেটি স্পষ্ট হবে।

ডারউইনের জয় উদযাপনের প্রশ্নে নাজমুল বলেন, অস্ট্রেলিয়া যেভাবে শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে এবং টস জয় করে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যা তারা সাধারণত করে না—তা দেখলে বোঝা যায় বাংলাদেশ তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানে অলআউট করে দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে তিনি মনে করেন, এই জয় অবশ্যই উদযাপন করা উচিত। পাশাপাশি এই টেস্ট থেকে শেখা উচিত যে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে আরও ভালো প্রদর্শন করা যায়।

নাজমুল আরও যোগ করেন, নিউজিল্যান্ডে তাদের এমন একটি জয় ছিল; এবার অস্ট্রেলিয়ায় হলো। আশা করেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এমন সাফল্য আসবে। ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট সামনের দিকে অগ্রসর হবে।

সব মিলিয়ে নাজমুল মনে করছেন, ম্যাকাইয়ের দুই দিনের লজ্জাজনক হার ডারউইনের জয়ের মাহাত্ম্য কমায়নি; বরং তার গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে পাওয়া সেই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় এক পুঁজি। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক এই সিরিজে জয়কে ‘আত্মসম্মানের ব্যাপার’ হিসেবে দেখেছেন বলে সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।