ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের ওপেনিং স্লটে কে স্থায়ী হবেন—সাঞ্জু স্যামসন নাকি বিস্ময়বালক বৈভাব সুরিয়াভানশি—তা নিয়ে কোচ গৌতম গাম্ভির তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী ভারতীয় দলের শেষ ম্যাচে সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কথা বলেন তিনি। দিল্লির এই সিরিজে আভিশেক শার্মার সঙ্গে ওপেনিং করার দায়িত্ব পান সাঞ্জু স্যামসন, অন্যদিকে পুরো সিরিজটি বেঞ্চেই কাটাতে হয়েছে বৈভাব সুরিয়াভানশিকে।

গৌতম গাম্ভির স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ১৫ বছর বয়সি সুরিয়াভানশির প্রতিভা নিয়ে দলের কোনো সন্দেহ নেই, তবে তাকে ধৈর্য ধরতে হবে। গাম্ভির বলেন, "বৈভাবের ব্যাপারে বিষয়টি অত্যন্ত স্বচ্ছ—তাকে সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা জানি তার সক্ষমতা এবং প্রতিভা কেমন। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, যে খেলোয়াড় দীর্ঘ বছর ধরে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছেন, তিনি নতুন আসা কারো চেয়ে অগ্রাধিকার পাবেন। যখনই সে সুযোগ পাবে, তখন তাকে দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।"

ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ড্রেসিংরুমের ভেতরে সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখার কথা বলেন কোচ। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্রিকেটে বয়স ১৫ হোক বা ৩০, যখন সুযোগের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন হয়, তখন তা মেনে নিতেই হয়।

গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পথে সাঞ্জু স্যামসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও জুনে আয়ারল্যান্ড এবং জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি ব্যর্থ হয়ে বিশ্রামের দোহাই দিয়ে দলের বাইরে চলে যান। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচে সুযোগ পান সুরিয়াভানশি, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত এই সিরিজটিতে তিনি আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারেননি। পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে সফরে স্যামসন বিশ্রাম নিলে সুরিয়াভানশি দুর্দান্ত ফর্মে ফেরেন। তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১৯ বলে ৫০, ৯ বলে ২০ এবং ৪৯ বলে ৮১ রান করে তিনি 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' ও 'ম্যান অব দ্য সিরিজ' উভয় খেতাব জয় করেন।

তবে আফগানদের বিপক্ষে সিরিজে আবারও স্যামসনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১০ রান করে আউট হওয়ায় তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, শেষ দুই ম্যাচে ২২ বলে ৫৭ এবং ৩৫ বলে ৫০ রানের দুটি ইনিংস খেলে যোগ্য জবাব দেন ৩১ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে, আভিশেক শার্মা এই সিরিজে ৩০ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরি করে দলের প্রথম পছন্দের ওপেনার হিসেবে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং গাম্ভিরের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, নিকট ভবিষ্যতে স্যামসনের ওপরই কোচ ও ম্যানেজমেন্টের আস্থা বেশি থাকবে।