লাল-সবুজ জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা এলিটা কিংসলি এবার ফুটবলার থেকে কোচ হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করলেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দল চট্টগ্রাম সিটি এফসির ডাগআউটে আজ তাঁর কোচ হিসেবে অভিষেক হয়েছে। তবে ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখনও বাফুফেতে নিবন্ধিত না হওয়ায় খেলোয়াড় তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ফলে কেবল কোচিং দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ থাকলেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি এফসির সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দিলেও দলের প্রস্তুতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলিটা। তাঁর মতে, মাত্র একটি অনুশীলন সেশন করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামা সম্ভব নয়। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মাত্র একবেলা অনুশীলন এবং ক্রিকেট ডরমিটরিতে অবস্থান করার পর মাঠে নেমেছে দলটি। এই অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে ম্যাচের ফলাফলে; অভিষেক ম্যাচেই ফর্টিস এফসির কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে নবাগত চট্টগ্রাম সিটি এফসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে এলিটা বলেন, তাঁর আগে কখনো কোচিং অভিজ্ঞতা ছিল না এবং এই বছরই তিনি প্রথম এই ভূমিকায় কাজ শুরু করলেন। তবে আগামীতে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিদেশি কোচ এখনও নিযুক্ত না হওয়ায় দলের অনুশীলনের পুরো দায়িত্ব সামলেছেন এলিটাই, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নিজেকে ফিটনেস কোচ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। দলের এক খেলোয়াড়ের তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত দলের একমাত্র অনুশীলন সেশনটি পরিচালনা করেছেন এলিটা।

২০১১ সালে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলতে প্রথম বাংলাদেশে আসা এলিটা পরবর্তীতে একজন বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করে এখানে স্থায়ী হন। এই পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাঁর নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হয় এবং ২০২১ সালের মে মাসে তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট লাভ করেন। ফিফা ও এএফসির সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ২০২৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকের সুযোগ পান তিনি। ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস এবং ঢাকা আবাহনীর মতো শীর্ষ ক্লাবে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেছেন তিনি। এছাড়া গত তিন মৌসুম তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেললেও শেষ মৌসুমে তাকে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত জীবনে এলিটা অধিকাংশ সময় বাংলাদেশেই কাটান, যদিও তাঁর স্ত্রী ও কন্যা বর্তমানে নাইজেরিয়ায় অবস্থান করছেন।