নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় রেললাইন ও পল্লী বিদ্যুতের সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার কাশিপুর ইউনিয়নের কাশিপুর ধোপাদাহ গ্রামে দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য অর্জন করা হয়। আটককৃতরা হলেন ধোপাদাহ পূর্বপাড়ার বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী জনি বেগম (৩৫) এবং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদা রিহাদ (২০)।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প এবং পল্লী বিদ্যুতের অত্যন্ত মূল্যবান ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি তামার তার চুরি করে আসছিল। এই বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর থেকে পল্লী বিদ্যুতের লোকবলসহ ডিবি পুলিশ অভিযানে নামে।
অভিযান চলাকালীন লোহাগড়া থানার কাশিপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর কামারপাড়া রেলক্রসিংয়ের কাছে উত্তম সাহার আবাদি জমিতে বিদ্যুতের খুঁটির গোড়া থেকে তার চুরির বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধোপাদাহ গ্রামের বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বড় ধরনের সাফল্য পায়। সেখান থেকে পদ্মা রেলওয়ে প্রকল্পের ১১ কেভি এবং ৩৩ কেভি আন্ডারপাসিং কেবলের ৯০ কেজি তামার তার, ২৫ কেজি সাদা অ্যালুমিনিয়ামের তার এবং তামার তারের পোড়া কাভার উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার কাটার সরঞ্জাম, একটি শাবল, লোহার রডের টুকরো (প্রায় ৮৫ কেজি), তার দুমড়ে-মুচড়ে ফেলার লোহার যন্ত্র (দুরমুজ) এবং ১৩ কেজি ওজনের একটি লোহার পাত জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব সামগ্রীর মোট বাজারমূল্য সোয়া দুই লাখ টাকার বেশি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদা রিহাদের বসতঘরেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে খাটের নিচ থেকে চারটি বড় আকারের ধারালো রামদা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান।




