সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। স্থানীয় ইনাতনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে গত সোমবার রাতে ৬৫ বছর বয়সী আছিয়া বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের দরজায় তালা লাগানো ছিল; পরে পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। খাটের ওপর কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় লাশটি পাওয়া যায়। শরীরের কিছু অংশ পচে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি একা থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ শহরে গিয়েছিলেন; এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। রাতে কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘর থেকে দুর্গন্ধ পান। তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় হত্যার আশঙ্কা করছেন নিহতের স্বজনরা। আছিয়া বেগমের মেয়ে কল্পনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে মায়ের সঙ্গে তার আর কোনো কথা হয়নি। তার স্বামী দিলশাদ মিয়া দাবি করেন, শাশুড়ির কাছে চিকিৎসার খরচের জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকার জন্যই কেউ তাকে হত্যা করে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখে গেছে বলে তার ধারণা। তিনি আরও বলেন, আছিয়া বেগমের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটির একটি মাত্র দরজা আছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা সন্দেহভাজন সম্পর্কে কিছু জানায়নি।




