যুক্তরাষ্ট্রের বেটিং দুনিয়ায় এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথাগত স্পোর্টসবুকের পরিবর্তে প্রেডিকশন মার্কেটের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। আচরণগত ডেটা প্রতিষ্ঠান 'ফুলস্টোরি'-র এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাজিকর জানিয়েছেন যে প্রেডিকশন মার্কেটের কারণে তাদের স্পোর্টসবুক ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ সরাসরি জানিয়েছেন, তারা এখন আগের চেয়ে কম স্পোর্টসবুক ব্যবহার করছেন।

এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে আইনি কৌশলের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ২০০৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস 'আনলফুল ইন্টারনেট গ্যাম্বলিং এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট' পাস করে, যা অনলাইন বেটিং সরাসরি নিষিদ্ধ না করলেও ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এর পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করে দেয়। তবে 'ফ্যান্টাসি স্পোর্টস'-কে দক্ষতার খেলা হিসেবে গণ্য করে এর বাইরে রাখা হয়েছিল। ড্রাফটকিংস এবং ফ্যানডুয়েলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দ্রুত নিজেদের ব্যবসা দাঁড় করায়। যদিও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল একে একটি বিশাল প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়।

বর্তমানে কালশি (Kalshi) এবং পলিমার্কেট (Polymarket)-এর মতো প্রেডিকশন মার্কেটগুলো একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। তারা দাবি করছে, তাদের কার্যক্রম জুয়া নয়, বরং এটি 'কমোডিটি ফিউচারস' বা পণ্যের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণের চুক্তির মতো। ফলে তারা স্টেট গেমিং বোর্ডের বদলে সরাসরি সিএফটিসি (CFTC)-র অধীনে থাকে। এর ফলে তাদের কোনো অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স নিতে হয় না এবং কোনো বেটিং ট্যাক্স দিতে হয় না। অর্থনীতিবিদ ভিক্টর ম্যাথসন মনে করেন, এই ধরনের অঘোষিত বেটিংয়ের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা সরকারি নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে।

১,০০০ জনের বেশি মার্কিনভোক্তার ওপর চালানো সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রেডিকশন মার্কেটের প্রতি মানুষের এই আকর্ষণের মূল কারণ কেবল লাভ বা অড্‌স নয়। বরং ৬০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস ও সুনাম এবং ৫৯ শতাংশ সহজ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি ৭৭ শতাংশ ব্যবহারকারী শুধুমাত্র উন্নত ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের জন্য তাদের পুরনো প্ল্যাটফর্ম বদলে ফেলেছেন। ফুলস্টোরি-র প্রেসিডেন্ট জেসন উলফ জানান, প্রেডিকশন মার্কেটে বৈচিত্র্যময় ইভেন্ট, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং সহজ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা প্রথাগত স্পোর্টসবুকগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা।

আর্থিক প্রভাবের কথা বলতে গেলে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে স্পোর্টস বেটিং থেকে ৩.৭১ বিলিয়ন ডলার কর রাজস্ব এসেছে। তবে আমেরিকান গেমিং অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রেডিকশন মার্কেটের কারণে রাজ্যগুলো প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাব্য কর হারিয়েছে। ইলিনয় রাজ্য এই খাতের ওপর ১৫ শতাংশ কর বসানোর চেষ্টা করলেও কালশি মামলা করে তা চ্যালেঞ্জ করেছে। নেভাদা, নিউ জার্সি এবং মেরিল্যান্ডেও একই ধরনের আইনি লড়াই চলছে। যদিও অনেক ব্যবহারকারী এখনো উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, তবে জেসন উলফের মতে, প্রেডিকশন মার্কেটগুলো ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশার মান বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো বেটিং শিল্পের ডিজিটাল রূপান্তর বাধ্য করবে।