বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ তাদের অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) গ্লাস 'স্পেক্স'-কে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। বুধবার এনভিডিয়া, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস এবং সেলসফোর্সের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। সেলসফোর্সের এজেন্টফোর্স প্ল্যাটফর্মটি গ্লাসের সফটওয়্যারে যুক্ত হবে, আর এনভিডিয়া ভিজ্যুয়াল পরিবেশ বোঝার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরবরাহ করবে। অ্যামাজন ভয়েস কমান্ডে সাড়া দিতে পারে এমন একটি এআই সহকারী দেবে।
স্ন্যাপের সিইও ইভান স্পিগেল জানান, তারা একটি ওপেন-সোর্স এক্সআর এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার ওপর ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসা নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন বানাচ্ছে। সেলসফোর্স ও এনভিডিয়ার সঙ্গে লক্ষ্য হলো ব্যবসাগুলো সহজেই এই এজেন্টিক প্ল্যাটফর্মের সুবিধা পেতে পারে। গত জুনে ২ হাজার ১৯৫ ডলার দামে স্পেক্স গ্লাস বাজারে আনে স্ন্যাপ। তখন স্পিগেল বলেছিলেন, প্রায় ২০ বছর পর আইফোনের মতো ডিভাইসে অভ্যস্ত গ্রাহকরা এখন কম্পিউটিংয়ের নতুন ধারণা নিতে প্রস্তুত। তথ্য সরাসরি চোখের সামনে দেখানো সম্ভব হলে ফোন বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকানোর প্রয়োজন হবে না।
গত মাসে কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয় সংক্রান্ত কনফারেন্স কলে স্পিগেল জানান, নতুন এআর গ্লাসের প্রি-অর্ডারে 'বিপুল আগ্রহ' দেখা যাচ্ছে, তবে সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেননি। এটি স্ন্যাপের প্রথম চশমা উদ্যোগ নয়। ২০১৭ সালে প্রথম প্রজন্মের ক্যামেরা গ্লাসের অবিক্রীত পণ্যের কারণে ৩৯.৯ মিলিয়ন ডলার খরচ লিখতে হয়েছিল। তবে নতুন স্পেক্সে ব্যবসাবান্ধব নানা ফিচার রয়েছে, যা একে সাধারণ ক্যামেরা গ্লাসের বদলে 'কম্পিউটার' হিসেবে কাজ করায়। বড় প্রাইভেট ডিসপ্লেতে কনটেন্ট স্ট্রিমিং, স্ক্রিন কাস্টিং, হোয়াইটবোর্ড খোলা—যেকোনো জায়গাকে কার্যস্থলে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
স্পেক্স প্রোগ্রামে এ পর্যন্ত ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। এই ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইরেনিক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, স্পেক্সের জন্য আলাদা তহবিল ব্যবস্থা হওয়া উচিত। এ ধরনের সন্দেহের কারণও আছে—অন্য প্রতিষ্ঠানের একই ধরনের উদ্যোগ সফল হয়নি। মেটার রিয়েলিটি ল্যাবস ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮৮.১ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে, যেখানে আয় ছিল মাত্র ১২.৩ বিলিয়ন ডলার। গুগলও ২০১৪ সালে ১ হাজার ৫০০ ডলারে গ্লাস বাজারে এনেছিল, কিন্তু পরের বছরই তা বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। পরে এন্টারপ্রাইজ সংস্করণ চালু হলেও ২০২৩ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।


