সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। প্রথম দিনের শেষ দিকে আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি এবং জাস্টিন গ্রিভসের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ যখন চাপে ছিল, তখন দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই হাসান মাহমুদের আক্রমণ শুরু হয়। ২১২ বলে সেঞ্চুরি করা জাঙ্গুকে বিভ্রান্ত করে বোল্ড করার মাধ্যমে হাসান তাঁর দাপট শুরু করেন। এরপরই রোস্টন চেজকে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ আউট করতে সক্ষম হন তিনি।

হাসানের বোলিংয়ে আরও এক নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয় যখন তিনি পর পর উইকেট নিতে থাকেন। জশুয়া বিশপকে আউট করে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন তিনি, তবে রিভিউয়ের কারণে বিশপ বেঁচে যাওয়ায় সেই রেকর্ড অধরা থেকে যায়। তবে লিটন দাসের এক অবিশ্বাস্য স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে জাস্টিন গ্রিভসকে আউট করে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ৫ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। লিটনের এই তৎপরতা এবং হাসানের নিখুঁত বোলিংয়ের সংমিশ্রণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।

এই অর্জনের মাধ্যমে হাসান মাহমুদ তাঁর ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন। দেশের মাটিতে এটাই তাঁর প্রথম ৫ উইকেট শিকার। এই সাফল্যের ফলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের পেসারদের তালিকায় ৫ উইকেট পাওয়ার হিসেবে এখন সবার উপরে অবস্থান করছেন হাসান। তিনি ৩৮ টেস্টে চারবার এই কৃতিত্ব পাওয়া শাহাদাত হোসেনকে ছাড়িয়ে গেছেন। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে, ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইতে এবং চলতি বছরের আগস্টে ডারউইনে ও গত মাসে আবুধাবিতে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং একই লাইন-লেন্থে বল করার ক্ষমতা তাকে বর্তমান দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত করেছে। তাঁর ধীরস্থির রান-আপ এবং অফ-স্টাম্পের বাইরের নিখুঁত ডেলিভারি ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের এই দাপুটে বোলিংয়ের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ দলের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় হাসানের এই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।