সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের দাপটে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাভেম হজ এবং অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে স্বাগতিক বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫.৩ ওভার শেষে ২ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা, যার ফলে তারা বর্তমানে ২২৯ রানে এগিয়ে।

দিনের দ্বিতীয় সেশনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য চরম হতাশাজনক। এই সময়ে একটি উইকেটও নিতে পারেনি স্বাগতিক দল, উল্টো ওভার প্রতি সাড়ে চার রানের বেশি গতিতে রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চা-বিরতির সময় ৬২ ওভারে ২ উইকেটে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে তারা। এই দীর্ঘ সময়ে একটি মেডেন ওভারও করতে পারেনি বাংলাদেশ। বর্তমানে ১৩০ বলে ১০টি চার ও একটি ছয়ে ৯৩ রানে অপরাজিত কাভেম হজ এবং ৮৯ বলে সাত চার ও একটি ছয়ে ৬৩ রানে খেলছেন কেভিন উইকহ্যাম। এই দুই ব্যাটসম্যানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৮৭ বলে ১৪০ রান এসেছে।

টেস্ট ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করেছেন কেভিন উইকহ্যাম। প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি পঞ্চাশের কোটা অতিক্রম করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে দুই ইনিংসেই ফিফটি করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন। ১৯৭৮ সালে সিউ শিবনারাইনের পর দীর্ঘ ৪৮ বছর পর এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। এছাড়া টেস্ট ইতিহাসে অভিষেকে জোড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলা ৪৫তম ব্যাটসম্যান হলেন উইকহ্যাম। মজার বিষয় হলো, এই রেকর্ডের সবশেষ পাঁচটি ঘটনার চারটিই হয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

ব্যাটসম্যানদের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে উইকহ্যাম ও হজের জুটিটি মাত্র ১৩৫ বলে একশ রান পূর্ণ করেছে। টানা ২৩টি ওভার ধরে কোনো মেডেন বল করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের বলে কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে ৬৮ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান উইকহ্যাম এবং তাইজুল ইসলামের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৭৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কাভেম হজ।

দিনের প্রথম সেশনে কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছিল। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্র্যান্ডন কিং-এর উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় উইকেটটি তুলে নেন। ৬১ রান করে আউট হন কিং। এছাড়া তাইজুল ইসলাম জশুয়া দা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে প্রথম উইকেটটি এনে দেন। তবে সেই ভরসা দ্বিতীয় সেশনে পুরোপুরি মুছে যায়। প্রথম সেশনে ৩৪ ওভারে ২ উইকেটে ১২৮ রান করা উইন্ডিজ দ্রুতই তাদের লিড বাড়িয়ে নিয়েছে।

এর আগে তৃতীয় দিনে তাওহিদ হৃদয়ের রেকর্ডগড়া ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসের কারণে ম্যাচে লড়াইয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চতুর্থ দিনে বোলারদের ধারহীনতার কারণে সেই সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় লক্ষ্য দেওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।