সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এক ভিন্ন আমেজ তৈরি হয়েছিল যখন শত শত স্কুল শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাসফরের অংশ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে আসে। একই রঙের পোশাকে সজ্জিত এই শিক্ষার্থীদের ব্যানার ছিল ‘স্টাডি ট্যুর’। খেলা শুরুর দিকে আমির জাঙ্গু এবং জাস্টিন গ্রিভসের জুটির দাপটে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে থাকলেও, হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং মুহূর্তের মধ্যেই গ্যালারির পরিবেশ বদলে দেয়। হাসান যখন পরপর দুই বলে দুই উইকেট শিকার করেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষার্থী ‘হাসান’ বলে চিৎকার করতেই বাকিরা সমস্বরে ‘উইকেট’ বলে উল্লাস করতে থাকে।
এই সফরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভাটেরা গার্লস স্কুলের প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী এবং কিডস ওয়ার্ল্ড স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষক রেজওয়ান চৌধুরীর নেতৃত্বে তারা এই সফরে আসেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে তারা প্রতিবছর শিক্ষাসফরের আয়োজন করেন এবং এবার ক্রিকেট মাঠকে সেই গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সামিরা জাহানের মতে, জীবনে প্রথমবারের মতো সরাসরি মাঠে খেলা দেখার অনুভূতিটি ছিল অসাধারণ। একইভাবে নুসরাত আক্তার জানান, টেলিভিশনে খেলা দেখার চেয়ে সরাসরি খেলোয়াড়দের সামনে থেকে দেখা এবং সবার সাথে চিৎকার করে আনন্দ করার মজাই আলাদা।
শিক্ষার্থীদের সাথে এই সফরে উপস্থিত ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। রেহানা বেগমের মতো অনেক অভিভাবকের জন্য এটি ছিল প্রথমবার ক্রিকেট খেলা দেখার অভিজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, কেবল পড়াশোনা নয়, শিশুদের খেলাধুলার সাথে পরিচয় করানো এবং দলগতভাবে সময় কাটানো শেখানোর জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত ফলপ্রসূ। ক্রিকেটের জটিল নিয়মকানুন তাদের জানা না থাকলেও, উইকেটে চিৎকার এবং ভালো শটে হাততালির মধ্য দিয়ে তারা মাঠের পরিবেশ উপভোগ করে। সামগ্রিকভাবে, এই শিক্ষাসফরে ক্রিকেট হয়ে উঠেছিল শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দের প্রধান উৎস এবং বাস্তব শিক্ষার এক মাধ্যম।




