অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি চলন্ত বাসে ১৩ বছর বয়সী এক মুসলিম স্কুলছাত্রীকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য ও গালিগালাজ করার দায়ে ওমর ইয়াসিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিডনির গ্রিনাকর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং বুধবার তাকে ব্যাংকসটাউন স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। জান্না নামের ওই কিশোরী স্কুল শেষে স্ট্র্যাথফিল্ড স্টেশন থেকে বাসে করে বাড়ি ফিরছিল। বাসের ভেতর ওমর ইয়াসিনকে অন্য এক কিশোরীর ছবি গোপনে তুলতে দেখে জান্না তাকে সতর্ক করে। এই সতর্কবার্তায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওমর ওই কিশোরীকে আক্রমণাত্মক ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি জান্নাকে 'অভিবাসী সংকর প্রাণী' বলে সম্বোধন করেন এবং দাবি করেন যে এই দেশে থাকার কোনো অধিকার তার নেই। জান্না পাল্টা জবাবে জানান যে তার জন্ম এই দেশেই, তবে তাতেও ওমরের আক্রমণ থামেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওমর তাকে 'অভিবাসী সন্ত্রাসী'সহ বিভিন্ন অশালীন শব্দ ব্যবহার করে আক্রমণ করছেন। ওই সময় বাসে উপস্থিত একজন নারী শিক্ষক ওমরের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান, যদিও ওমর বাসের সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে আঙুল দেখিয়ে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ তৈরি হয়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, ওমর ইয়াসিনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আক্রান্ত কিশোরী জান্না জানিয়েছে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এমন ক্ষেত্রে সে আবারও প্রতিবাদ করবে। জান্নার মা রুলা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমাজে উগ্র বক্তব্য এবং বিভেদ সৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে, যার সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ছে মুসলিম নারী ও শিশুরা।
এদিকে ইসলামোফোবিয়া রেজিস্টার নামক একটি সংস্থার তথ্যানুসারে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামবিদ্বেষ এবং অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এখন প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। এমনকি জনসমাগমের স্থানে স্কুলপড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্করাও এখন বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সিনেটর ফাতিমা পেয়ারম্যান এই পুরো ঘটনাটিকে 'অত্যন্ত লজ্জাজনক' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আসা বিদ্বেষমূলক প্রচারণাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে।



