মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিলখী এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর জলে ভেসে থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে একটি এক বছরের শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ে। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি পাঁচ দিন পূর্বে বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর একমাত্র সন্তান আবিরের মরদেহ। তিনি আরও বলেন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতেই নদ থেকে শিশুটির অবক্ষয়প্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গত ১৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার একটি ঘন জঙ্গলে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে পরবর্তীতে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারীর স্থায়ী ঠিকানা নাটোর জেলার লালপুর থানা এলাকায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের পিতা শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়মেহের এলাকার সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে ওই নারীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল আবির। ওই সময় স্বামী একটি মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন। এই সুযোগে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার বাসিন্দা ফারুক মোল্লার সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ফারুক ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন। সেখানে তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাঁর মরদেহটি জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়, যাতে ঘটনা গোপন রাখা যায়। একই সময়ে শিশুসন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে নিক্ষেপ করা হয়, যাতে শিশুটির অস্তিত্ব মুছে ফেলা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজৈর এলাকা থেকে ফারুককে শিবচর থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা আটক করেন। তাঁর কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মালা, ওড়না ও এক জোড়া জুতা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ফারুক পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে শিশুটিকে নদীর জলে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন।

এরপর থেকেই শিবচর থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নদীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে নিলখী এলাকায় লাশটি ভেসে ওঠে এবং তা উদ্ধার করা হয়।