অস্ত্র এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধারের অভিযোগে সূত্রাপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা আবেদনের পর শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রিমান্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— আইনজীবী জাকি উল্লাহ বাহার (৫৮), মো. আনোয়ারুল হক (৬২), জাকির হোসেন (৪৮) এবং হিরু বড়ুয়া (৩৬)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল মোল্লা আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে আদালত দুই দিনের মেয়াদ মঞ্জুর করেন। পুরো ঘটনার সূত্রপাত ১৯ আগস্ট বিকেলে, যখন পুলিশ সূত্রাপুর থানাধীন নর্থব্রুক হল রোডের নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটে অবস্থিত ভূঁইয়া মোটরস দোকানে অভিযান চালায়। পুলিশের ভাষ্যমতে, অভিযানের সময় তুরাগ থানার এক মামলার আসামি জাকি উল্লাহ বাহারসহ আরও ৮-৯ জন ওই দোকানে প্রবেশ করেন। তাঁদের সাথে থাকা দুজনের হাতে দুটি শপিং ব্যাগ ছিল। পুলিশ তল্লাশি করতে চাইলে ওই ব্যক্তিরা ব্যাগ দুটি ফেলে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই ব্যাগগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ দেশে তৈরি দুটি পাইপগান এবং দুটি ১২ বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ containing একটি ৬৪ জিবি পেনড্রাইভ এবং আসামিদের তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটের ভূঁইয়া মোটরসের মালিক হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়ার দোকান ও মার্কেটের মালামাল আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে হাফিজ উল্লাহকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে ওই দোকানে অস্ত্র ও গুলি রাখা হয়। রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আসামিরা একটি সাদা রঙের পাজেরো গাড়িতে করে অস্ত্র ও গুলিগুলো ঘটনাস্থলে নিয়ে এসেছিলেন। ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল রহস্য উদঘাটন, অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করা এবং এই চক্রের বাকি পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্ত কর্মকর্তা রাসেল মোল্লা নিশ্চিত করেন যে, আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এর আগে ২০ আগস্ট সূত্রাপুর থানার এসআই ওসমান বাদী হয়ে এই চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।




