শেয়ারবাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, খুব শীঘ্রই বাজারে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারনির্ভর লেনদেন বৃদ্ধি পাবে। গত কয়েক মাস ধরে বাজারে মূলত দুর্বল ও নিম্ন মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারগুলোর দাম বৃদ্ধি বা র্যালি দেখা গেছে। যদিও অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তনের সঙ্গে এই ধরনের শেয়ারের উত্থান-পতনের কোনো যৌক্তিক যোগসূত্র নেই, তবুও স্বল্পমেয়াদে মুনাফা করার প্রবণতা থেকে বিনিয়োগকারীরা এই কোম্পানিগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। তবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, দুর্বল মানের কোম্পানির শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও তা শেষ পর্যন্ত দরপতনের মুখে পড়ে এবং পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। বর্তমান বাজার পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, সেই দরপতনের সময় এখন অত্যন্ত সন্নিকটে।
আগামী দিনগুলোতে শেয়ারবাজার মূলত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিশ্বাসের পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ বিদ্যমান। প্রথমত, ইতিমধ্যে অনেক ভালো ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদহার কমেছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি বন্ডের সুদহারও হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গতি বর্তমানে স্থবির হয়ে থাকায় বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে শেয়ারবাজার সামনে চলে এসেছে। ফলে বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তারাও এখন শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকছেন। আর যখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা বড় উদ্যোক্তারা বাজারে প্রবেশ করেন, তখন সাধারণত ভালো মানের শেয়ারের চাহিদাই বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া, জুনে সমাপ্ত হওয়া আর্থিক বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই শুরু হবে। ঐতিহাসিকভাবে যেসব কোম্পানি নিয়মিত এবং ভালো লভ্যাংশ প্রদান করে আসছে, উচ্চ সম্পদশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সেইসব কোম্পানির প্রতি বাড়বে, যা সরাসরি শেয়ারের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে অনেক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে, তাই এগুলোর ঘুরে দাঁড়ানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর সুবিধা। চলতি বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর চূড়ান্ত দায় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা অনেক বিনিয়োগকারীর জন্য উল্লেখযোগ্য কর ছাড়ের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব উদ্যোক্তাদের নিজেদের কোম্পানিতে বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে, তারা এই সুবিধার মাধ্যমে বড় অংকের কর সাশ্রয় করতে পারবেন। ফলে তারা নিজেদের বা অন্য কোনো ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির শেয়ারে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব দ্রুতই বাজারে মানসম্মত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




