প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার কর্মীরা। কিন্তু সেই কর্মীদের ধরে রাখতে হলে পুরনো ধারণা ও কৌশল থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কর্মীর অভিজ্ঞতা (employee experience) যে শুধু কর্মীর সন্তুষ্টির বিষয় নয়, তা সরাসরি গ্রাহকের অভিজ্ঞতার উপর প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ, কর্মীরা যদি নিজেদের কাজে অর্থ খুঁজে পান এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য অনুভব করেন, তাহলে সেই ইতিবাচক মনোভাব গ্রাহকদের কাছেও পৌঁছে যায়।
প্রতিষ্ঠানে কর্মী ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অতীতের চিন্তাভাবনায় আটকে থাকা। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও মনে করে বেতন ও সুবিধাই যথেষ্ট, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কর্মীরা এমন পরিবেশ চান যেখানে তাদের কাজের গুরুত্ব স্বীকৃত হয় এবং তারা নিজেদের উন্নতির সুযোগ পান। অর্থপূর্ণ কাজ (meaningful work) এবং নতুন দায়িত্ব বা দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হলে কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের সাথে থাকতে আগ্রহী হন।
গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মী ছাঁটাই বা পদত্যাগের হার (churn) কমাতে হলে শুধু পারিশ্রমিক নয়, কর্মীদের মানসিক ও পেশাগত চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজন। যে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মতামতকে মূল্য দেওয়া হয়, তাদের কাজের স্বাধীনতা থাকে এবং ক্যারিয়ার গড়ার পথ দেখানো হয়, সেখানে কর্মীরা বেশি সময় ধরে থাকেন। ফলে গ্রাহকদের সাথেও একটি স্থিতিশীল ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা ব্যবসার জন্য অপরিহার্য।
অন্যদিকে, কর্মী অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করা হলে ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ কর্মী চলে গেলে তার সাথে গ্রাহক সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান এবং দলের মনোবলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কর্মীদের ধরে রাখতে চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলিকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। অতীতের কৌশল নয়, বর্তমান প্রজন্মের কর্মীদের প্রত্যাশা বুঝে নতুন নীতি গ্রহণ করতে হবে।
সর্বোপরি, কর্মীরা যদি নিজেদের কাজে উদ্দেশ্য খুঁজে পান এবং প্রতিষ্ঠান তাদের উন্নতির সুযোগ দেয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা আরও সন্তুষ্ট থাকেন। এই সম্পর্কটি স্পষ্ট বোঝা গেলে ব্যবসায়িক সাফল্যের পথ আরও প্রশস্ত হয়। তাই ‘গতকালের মতোই’ আচরণ না করে, কর্মীদের জন্য আজকের ও আগামী দিনের পরিবেশ তৈরি করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।




