শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় মধ্যরাতে তিনটি ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের চেষ্টার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে অভিযুক্তরা জবাই করা ঘোড়ার মাংস ফেলে চম্পট দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ভালুকা এলাকায় ফরহাদ নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পেছনের ফুলহারি নামক স্থানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলহারি অঞ্চলে একটি সক্রিয় চক্র দীর্ঘদিন ধরেই ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা লক্ষ্য করেন, ওই এলাকায় তিনটি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে এবং মাংস কাটার কাজ চলছে। তারা আরও দেখতে পান, ঘটনাস্থলের কাছেই বাঁধা অবস্থায় রয়েছে আরও তিনটি ঘোড়া। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়েই অভিযুক্ত 'কারবারিরা' দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পশ্চিম ভালুকা গ্রামের গুতামিয়া নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র এই ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত। তারা ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং জবাই করা ঘোড়ার মাংসের নমুনাসহ অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে। অবশ্য পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঝিনাইগাতী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কানাই চন্দ্র লাল চক্রবর্তী জানান, তথ্য পাওয়ার পরপরই রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে ঘোড়ার মাংসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অবশিষ্ট মাংস মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাটি রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, গুতামিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির সাথে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলমান। উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ঘোড়ার মাংস সরবরাহের সাথে জড়িত একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করে পাঁচজনকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে ঝিনাইগাতীর এই নতুন ঘটনার সাথে সেই চক্রের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।