শরীয়তপুর জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আলাদা আলাদা সময়ে প্রকাশ্যে মিছিল করেছেন। এর মধ্যে আজ রোববার সকালে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল বের করেন। মিছিলে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দলীয় পতাকাও দেখা যায়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান সামনে থেকে স্লোগান দেন এবং তাঁর সঙ্গে বাকি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরাও স্লোগানে অংশ নেন।

এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার তুলাশার ইউনিয়নের একটি গ্রামের সড়কে যুবলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ইকবাল হোসেন ওরফে রতন। মিছিল শেষে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় মিছিলের বেশ কয়েকটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

মিছিলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মিছিলে অংশ নেওয়া ছয়জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক মাতবর, ওমর ফারুক, রাকিবুল সরদার, আসিফ সরদার, বিল্লাল সরদার ও সুজন দেওয়ান। তাঁরা যুবলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, আটক ছয়জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজকের ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভিডিওগুলো সংগ্রহ করে মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের এই মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।