রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর এবং চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের চুক্তি গভীরভাবে পরীক্ষা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।
‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি–সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন এবং বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেনি যে বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বা নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। অবিলম্বে এই চুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের মতে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে বড় আকারের আধুনিকায়নের সুযোগ সীমিত। বিদ্যমান যন্ত্রপাতি দিয়েই বহু বছর কার্যক্রম চালানো সম্ভব। বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যাবে—এই ধারণাটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এম এম আকাশ চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের ‘স্নায়ুমুখ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এ ধরনের চুক্তি জাতীয় স্বার্থের আলোকে নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এম এ সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বন্দর রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় একটি সর্বজনীন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার সভায় একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সঞ্চালনায় এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বাংলাদেশের জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি তপন দত্ত, চট্টগ্রাম সিবিএর সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা তসলিম হোসেন, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান ভূঁইয়া এবং সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য মছিউদ্দৌলা।




