রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ছয় দিনের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পূর্বের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সাজেক মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির বিশেষ অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার ধর্মীয় পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করাই এই সাময়িক স্থগিতাদেশের মূল উদ্দেশ্য। তবে আন্দোলনকারী নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর যদি প্রশাসন তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না করে, তবে তারা পুনরায় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এসময় বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু এবং মাচলঙের ১৪ কিলোমিটারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। এর ফলে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। গত ১১ অক্টোবর প্রথমবার এই দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যা প্রশাসনের আশ্বাসের পর ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়। কিন্তু বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় যে, জেএসএস-এর সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয়দের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে জেএসএস এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা দাবি করেন, ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি ঢাকতেই এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, ইউপিডিএফ-এর চাপেই এই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, গত রোববার অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী যানবাহন আটকা পড়লে জেলা প্রশাসন নিরাপত্তার খাতিরে সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের সময় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা বন্ধ রাখা হলেও বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।




