যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ডিহি, লক্ষণপুর, বাহাদুরপুর, নিজামপুর এবং শার্শা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয় ও খাল-বিল এখন শামুক সংগ্রহের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চরম দারিদ্র্য ও কাজের সুযোগ না থাকায় স্থানীয় অসহায় মানুষ এখন ডিঙি নৌকা বা হেঁটে শামুক সংগ্রহ করে সংসার চালাচ্ছে। এই শ্রমে নারী-পুরুষের পাশাপাশি ছোট শিশুরাও যুক্ত হচ্ছে। সংগ্রহ করা শামুকগুলো তারা ব্যবসায়ীদের কাছে কেজি প্রতি মাত্র সাত টাকা দরে বিক্রি করছেন। একজন সংগ্রহকারী দিনে গড়ে ৩০ থেকে ৭০ কেজি শামুক সংগ্রহ করতে পারেন, যার মাধ্যমে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় সম্ভব হয়। তবে বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগ্রকদের একজন জয়দেব চক্রবর্তীর মতে, বর্ষাকালে কৃষিকাজসহ অন্যান্য আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই পেশায় এসেছেন। পবন মণ্ডল নামের আরেক সংগ্রক জানান, মাঠে কাজের অভাবের কারণেই তাকে শামুক কুড়াতে হচ্ছে এবং সেই অর্থ দিয়েই তার পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হয়।
ব্যবসায়িক দিক থেকে দেখা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণ শার্শার দুটি ব্যবসায়ী দল প্রতিদিন প্রায় ২০০ মণ শামুক সংগ্রহ করে। বর্ষার তিন-চার মাস এই ব্যবসা সবচেয়ে বেশি চলে। ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন, কামাল হোসেন এবং আকরম আলীর মতো ব্যক্তিরা স্থানীয়দের কাছ থেকে শামুক কিনে বিভিন্ন জেলার বড় আড়তে প্রেরণ করেন। বিশেষ করে খুলনার চেঁচুড়ি-কাপালিয়ায় এই শামুকগুলো পাঠানো হয়, যেখানে যন্ত্রের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে চিংড়ি ও পাঙ্গাশ মাছের পশুখাদ্য তৈরি করা হয়।
তবে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে পরিবেশগত ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক ইউনুচ আলী। তার মতে, নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ করলে জলজ পরিবেশ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই সংগ্রকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা জরুরি। শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা জানান, জলাশয়ের পানি পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জলজ প্রাণীর অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে শামুকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ জানিয়েছেন, এলাকায় শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। পরিবেশ রক্ষায় ব্যবসায়ী ও সংগ্রকদের সতর্ক করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




