চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কৌশলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করে ধরা পড়েছেন মাসকাট ফেরত এক যাত্রী। আজ শুক্রবার সকালে মাসকাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ওভি-৪০১ ফ্লাইটে করে দেশে ফেরেন মোহাম্মদ হাসান মুরাদ, যিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নাসিরনগরের বাসিন্দা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণের পর যাত্রীরা যখন কাস্টমসের স্ক্যানিং প্রক্রিয়া শেষ করে বের হচ্ছিলেন, তখন হাসান মুরাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয় গোয়েন্দাদের। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর তল্লাশি শুরু করলে ব্যাগ থেকে বিভিন্ন রূপে লুকানো মোট ৫৩৪ গ্রাম বা ৪৫ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত স্বর্ণের মধ্যে ১০৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ৪২৫ গ্রাম স্বর্ণের পিণ্ড এবং ৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট আকারে ছিল।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, স্বর্ণগুলো ব্যাগে এমন বিশেষ কায়দায় সাজিয়ে রাখা হয়েছিল যে প্রাথমিক স্ক্যানিংয়ের সময় তা শনাক্ত করতে সমস্যা হয় এবং স্ক্যানার বিভ্রান্ত হয়। তবে পরবর্তীতে গোয়েন্দাদের সতর্কতার কারণে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ও রাজস্ব মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এই চোরাচালান প্রক্রিয়ার অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এখন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার এবং স্বর্ণ চোরাচালানের মতো অপরাধ রোধ করতে বিমানবন্দর কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।